লন্ডনে তাপদাহের রেকর্ড, ৩৩.৫ ডিগ্রিতে পুড়ছে নগরী

লন্ডনে তাপদাহের রেকর্ড, ৩৩.৫ ডিগ্রিতে পুড়ছে নগরী

লন্ডন, ২৬ মে:

লন্ডনে মে মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার পশ্চিম লন্ডনের হিথ্রো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা যুক্তরাজ্যের মে মাসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনের শেষে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে রবিবার কিউ গার্ডেনে ৩২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। টানা তিনদিন ২৮ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে লন্ডনকে এখন ‘হিটওয়েভ’-এর মধ্যে ধরা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মে মাসে এমন তীব্র গরম এবং রাতেও ২০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা না নামা যুক্তরাজ্যে প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুই রাত “ট্রপিক্যাল নাইট” হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ রাতেও মানুষ গরম থেকে স্বস্তি পাবে না।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা UKHSA লন্ডনসহ দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড, ইস্ট মিডল্যান্ডস ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলে অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট জারি করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমে বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মেট অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ গ্রেগ ডিউহার্স্ট বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব দ্রুত ও চরম আকারে ঘটছে। আগে তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে তৈরি হতো, এখন কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এদিকে অতিরিক্ত গরমে পূর্ব সাসেক্সের হেস্টিংস সমুদ্রসৈকতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর জরুরি সেবা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, হিটস্ট্রোক এখন বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠে যাওয়া, বিভ্রান্তি, বমি, খিঁচুনি কিংবা ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা লন্ডনবাসীকে দিনের মধ্যভাগে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার, পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।