যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে ব্রিটেনকে: এমপি ও সাবেক ন্যাটো উপদেষ্টার সতর্কবার্তা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ জানুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতা আর নিরাপদ নয়—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ও ন্যাটোর সাবেক এক শীর্ষ উপদেষ্টা। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে ব্রিটেনকে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করলে যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভাকে আহ্বান জানানো হয়েছে—আমেরিকার সামরিক সহায়তা ছাড়াই সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, সংকটের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে কি না, তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। অথচ বাস্তবতা হলো—৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ হিসেবে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (Article 5) সক্রিয় করেছিল, যা একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সকল সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করে।
থিঙ্ক ট্যাংক সিভিটাস প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের মতো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে ন্যাটোর এই সম্মিলিত নিরাপত্তা নীতির প্রতি অটল থাকবে—এমন নিশ্চয়তা আর দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন ন্যাটোর সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ক্রিস ডনেলি এবং এমপি বার্নার্ড জেনকিন ও ডেরেক টুইগ। এতে বলা হয়,
“আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অর্থাৎ ধরে নিতে হবে—যুক্তরাষ্ট্র আর নির্ভরযোগ্য মিত্র নাও থাকতে পারে এবং তারা নিজেদের সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলাদা পথে হাঁটতে পারে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৭০ বছরের শান্তি ও সমৃদ্ধির ফলে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো যুদ্ধের বাস্তবতার জন্য মানসিক ও কাঠামোগতভাবে প্রস্তুত নয়।
প্রতিবেদনের ভূমিকায় ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ও লেবার সরকারের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা পর্যালোচনার চেয়ারম্যান লর্ড জর্জ রবার্টসন বলেন,
“যুক্তরাজ্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয় এবং কার্যত আক্রমণের মুখে রয়েছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উচ্চ ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, যেসব দেশ যুক্তরাজ্যের প্রতি সদিচ্ছু নয়।
এছাড়া যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে (NEETs), দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাদের যুদ্ধসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হতে প্রস্তুত থাকতে হবে। স্কুলগুলোকে যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণে বেশি সংখ্যক ওয়েল্ডার ও ইলেকট্রিশিয়ান তৈরির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
যদিও লেবার সরকার আগামী বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে প্রায় ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি সংসদের এক শক্তিশালী কমিটির সামনে দাবি করেন, কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনা (SDR) পুরোপুরি ব্যয়সংবলিত নয়—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
তবে চলতি মাসের শুরুতে খবর প্রকাশিত হয়, দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে প্রতিরক্ষা বাজেটের এই ঘাটতির বিষয়টি সরাসরি অবহিত করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—বাস্তবতা মেনে নিয়ে দ্রুত আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা।