শিশু সেজে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে চালু হচ্ছে এআই ফেস স্ক্যানিং সিস্টেম
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩০ মে:
যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এবার নতুন প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে সরকার। সীমান্তে আগত অভিবাসীদের মধ্যে যারা নিজেদের বয়স কমিয়ে শিশু দাবি করছে, তাদের শনাক্ত করতে চালু করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ফেসিয়াল স্ক্যানিং প্রযুক্তি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রযুক্তিটি একজন ব্যক্তির মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে তার সম্ভাব্য বয়স অনুমান করবে। মূলত যেসব অভিবাসী বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করছে এবং নিজেদের ১৮ বছরের নিচে দাবি করছে, তাদের যাচাই করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৬ হাজার ৪২০ জন অভিবাসীর বয়স নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও নিজেদের শিশু হিসেবে দাবি করেছিল।
সরকার বলছে, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশু পরিচয়ে আশ্রয়, আবাসন, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত শিশু শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ সেবা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য ব্রিটিশ সরকার ইতোমধ্যে হার্লোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Akhter Computers Ltd-কে চুক্তি দিয়েছে। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জার্মান ফেসিয়াল রিকগনিশন কোম্পানি Cognitec। এই সফটওয়্যার সীমান্তে তোলা ছবির মাধ্যমে বয়স অনুমান করবে।

ব্রিটিশ সীমান্ত নিরাপত্তা মন্ত্রী এলক্স নরিস বলেছেন, “অনেক দিন ধরেই প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা মিথ্যা বয়স দেখিয়ে সিস্টেমকে ফাঁকি দিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি তাদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে এবং প্রকৃত শিশুদের জন্য সংরক্ষিত সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সমাজকর্মীরা বলছেন, কেবল মুখের গঠন দেখে বয়স নির্ধারণ সবসময় নির্ভুল নাও হতে পারে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, অপুষ্টি বা দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে একজন কিশোরের চেহারায় বয়সের ছাপ বেশি দেখা যেতে পারে। ফলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি থেকে যায়।
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কার্সের প্রধান নির্বাহী সাম ব্যারণ বলেছেন, বয়স নির্ধারণ একটি মানবিক ও জটিল প্রক্রিয়া। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রবেশের সংখ্যা এখনও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই নতুন এআই প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু করা হতে পারে। তার আগে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলবে।