২০২৬ স্টারমারের জন্য বড় পরীক্ষা: ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি লেবার সরকার ?

২০২৬ স্টারমারের জন্য বড় পরীক্ষা: ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি লেবার সরকার ?

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩০ ডিসেম্বর :  ডাউনিং স্ট্রিটে দ্বিতীয় পূর্ণ বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার—কিন্তু অবস্থানটি মোটেও স্বস্তির নয়। মাত্র ১৮ মাস আগে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও, তিনি ইতোমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীদের কাতারে ঢুকে পড়েছেন। তবুও স্টারমারের বিশ্বাস, ২০২৬ সালই হবে সেই বছর, যখন তার নেতৃত্বের বাস্তব ফল ভোটারদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

ডাউনিং স্ট্রিটে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে লেবার পার্টির চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি দলীয় উপদেষ্টাদের স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—২০২৬ হবে “প্রমাণের বছর”। অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে লেবার ভোট নিয়েছিল, তার বাস্তব রূপ এই বছর থেকেই দৃশ্যমান করতে হবে।

বছরের শুরুতেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সুদের হার কমা ও জ্বালানি বিল থেকে লেভি প্রত্যাহারকে সাধারণ মানুষের স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরবেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, সামনে স্টারমারের জন্য অপেক্ষা করছে একাধিক কঠিন পরীক্ষা।

এর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা (SEND) সংস্কার। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে ইতোমধ্যে অভিভাবক মহল ও লেবারের ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে যদি সংস্কার করা হয়—এমন ধারণা তৈরি হলে দলীয় বিদ্রোহের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মে মাসে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচন স্টারমারের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। লেবারের খারাপ ফল দলটির নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারে, এমনকি স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় নির্বাচনের পর নতুন রাজা’র ভাষণের মাধ্যমে নতুন আইন প্যাকেজ আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে অভিবাসন আইন, হাউস অব লর্ডস সংস্কার ও লিজহোল্ড ব্যবস্থার পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোও স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্য চুক্তি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং ইউক্রেন ইস্যু—সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি এক সংবেদনশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে।

এর পাশাপাশি একক-লিঙ্গভিত্তিক জনপরিসর ব্যবহারের বিষয়ে সমতা ও মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশনা অনুমোদন নিয়েও সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল কিয়ার স্টারমারের জন্য কেবল আরেকটি ক্যালেন্ডার বছর নয়—এটি তার নেতৃত্ব, দল এবং প্রধানমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বছর। ‘প্রমাণের বছর’-এ তিনি আদৌ প্রমাণ দিতে পারবেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতি।