সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বরাবরের মতো  হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশাল জনতার সামনে এক জনসভার মাধ্যমে ৭ জানুয়ারীর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সূত্রপাত করলেন ২০ ডিসেম্বর। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বক্তৃতা শুরু করে ৪টা ৫৫ মিনিটে শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং সভায় সঞ্চালনা করেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির আহমদ ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অভিনেত্রী তারিন জাহান, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘৭ই জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই সিলেট অলি-আউলিয়ার দেশ। এদেশ থেকেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। আমরা আমাদের দলকেও ভোটের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। সবাই দাঁড়াবে, সবাই কাজ করবে। জনগণ যাকে ইচ্ছে বেছে নেবে। তাহলে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি। স্মার্ট বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব দেশ, দক্ষ জনগণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন তৈরি করব। স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট জনগণ, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলব।

 দেশের জনগণ বার বার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে বলেই আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন, সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল তারা গণমানুষের দিকে তাকায়নি। তারা শুধু লুটপাট, জনগণের ভোটচুরি, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে কীভাবে চুরি করবে, এই চুরি করাটাই ছিল তাদের কাজ। তারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো কাজ করেনি। তারা এসেছিল ক্ষমতাকে ভোগ করতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই নৌকা নুহু নবীর নৌকা। এই নৌকায় মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আবার এই নৌকা যখন সরকারে এসেছে, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। আজকে আপনাদের কাছে আমার আহ্বান, আগামী নির্বাচনে আমরা যাদের নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছি, তাদের ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, মানুষকে ভোট দিতে দেবে না, নির্বাচন বন্ধ করবে এত সাহস কোথা থেকে পায়? ওই লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর কতোগুলো লোক এখানে আগুন নিয়ে খেলে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পুড়ে, এটা তাদের মনে রাখা উচিত। তারা (বিএনপি) মনে করেছে দুটি বাসে আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে, এত সহজ না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বাণিজ্য করেই ধ্বংস করেছে নির্বাচন। একজন লন্ডনে বসে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। আরেকজন গুলশানে বসে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। আবার পল্টন থেকেও আরেকবার বিক্রি করেছে। তারা এভাবে নির্বাচনকে বাণিজ্যে পরিণত করে ধ্বংস করেছে। এছাড়া লন্ডন থেকে হুকুম দিয়ে মানুষ পোড়ানো বিএনপির চরিত্র। আমরা যখন উন্নয়ন করছি- বিএনপি তখন আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে। আগুনসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আল্লাহ জন বুঝে ধন দেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্যাস পায়নি, আওয়ামী লীগের আমলে সেসব স্থানেই গ্যাসের সঙ্গে তেলও পাওয়া গেছে। বিএনপির আমলে মিললে এসব তারা লুটেপুটে খেতো, কিন্তু আমরা এসব সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করছি।’