বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিকল্পিত আগুন

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিকল্পিত আগুন

ঢাকা প্রতিনিধি: ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির নতুন চিত্র সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অর্থের বিনিময়ে এই আগুন দেওয়া হয়েছে এবং এতে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (২ মে) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম (৩০), স্টোর ইনচার্জ জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) এবং স্টোরকিপার হুমায়ুন কবির খান (৫৯)। পুলিশ বলছে, মূলত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম সরাসরি আগুন দেওয়ার কাজটি করেন এবং তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে, মিরপুর-২ এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে। সেখানে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ৭৩৫টি ল্যাপটপ সংরক্ষিত ছিল। আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ৬২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৮৩টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই অগ্নিকাণ্ড শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়; বরং সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি সম্পদ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এটি ঘটানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিসি মোস্তাক সরকার আরও জানান, অভিযুক্ত আসমাউল ইসলাম ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন এবং সেই অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেছেন। তবে এই চুক্তির পেছনে কারা ছিল এবং বৃহত্তর কোনো চক্র জড়িত আছে কি না—তা এখনও তদন্তাধীন।

আসমাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে স্টোর ইনচার্জ ও স্টোরকিপারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও একজন জড়িত থাকতে পারে, তাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী চক্রের সক্রিয়তার একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের অগ্রগতি এখন নির্ধারণ করবে, এর পেছনে কতটা গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।