যুক্তরাজ্যে ট্যাক্সি ট্যাক্স’ এড়াতে উবারের চুক্তি পরিবর্তন
ডেইলি ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ জানুয়ারি :
যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন ‘ট্যাক্সি ট্যাক্স’ কার্যকর হওয়ার পর কোটি কোটি পাউন্ড ভ্যাট পরিশোধ এড়াতে চালকদের সঙ্গে চুক্তির ধরন বদলে ফেলেছে রাইড-হেইলিং অ্যাপ উবার। নতুন চুক্তির ফলে লন্ডনের বাইরে উবার আর পরিবহন সেবার সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং একজন ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।
নভেম্বরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস মিনিক্যাব ভাড়ার ওপর ভ্যাট আরোপের নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এতে উবারের মতো অ্যাপভিত্তিক সেবায় পুরো ভাড়ার ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট বসার কথা ছিল। সে সময় পার্লামেন্টে রিভস বলেছিলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড কর রাজস্ব সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন শর্ত অনুযায়ী, লন্ডনের বাইরে উবার চালকরা সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন। অর্থাৎ ভাড়ার ওপর ভ্যাট আদায়ের দায় থাকবে চালকদের ওপর, আর উবার কেবল নিজের কমিশনের ওপর ভ্যাট যোগ করবে। যেহেতু অধিকাংশ চালকের বার্ষিক বুকিং ৯০ হাজার পাউন্ডের কম, তাই তারা ভ্যাট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় পড়েন না। এর ফলে লন্ডনের বাইরে বেশিরভাগ উবার যাত্রায় ২০ শতাংশ ভ্যাট কার্যত আরোপ হবে না, এবং ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে।
তবে এই নতুন ব্যবস্থা লন্ডনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL)-এর নিয়ম অনুযায়ী সেখানে ‘এজেন্সি মডেল’ অনুমোদিত নয়। ফলে রাজধানীতে উবার যাত্রীদের আগের মতোই পুরো ভাড়ার ওপর ভ্যাট দিতে হবে।
বাজেট ঘোষণার পর থেকেই উবারের এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সে সময় উবার ইউকের আঞ্চলিক জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু ব্রেম সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন করনীতির ফলে লন্ডনে যাত্রীদের ভাড়া বাড়বে এবং চালকদের কাজ কমে যাবে—যখন মানুষ ইতিমধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি এটিকে “অযৌক্তিক” পরিস্থিতি আখ্যা দেন, যেখানে লন্ডনের একটি যাত্রা দেশের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় ভিন্ন করহারে করযোগ্য হবে।
এদিকে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, অনলাইন মিনিক্যাব কোম্পানিগুলোর একটি ‘নিশ’ কর ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা হলে সাধারণ ট্যাক্সিচালকরা আরও ন্যায্য করব্যবস্থার সুবিধা পাবেন এবং সরকার প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে—যার মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, হাসপাতালের অপেক্ষমাণ তালিকা কমানো এবং ঋণ ও ধার হ্রাসের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে উবারের এই নতুন চুক্তির ফলে সরকার যে বছরে ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড কর রাজস্ব সুরক্ষার আশা করেছিল, তা কতটা প্রভাবিত হবে—সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।