স্বরাষ্ট্র দপ্তর এটিকে আখ্যায়িত করে বলেছে ‘লজ্জাজনক’
৪১ হাজারের বেশি মানুষ গত বছর ছোট নৌকায় প্রবেশ করেছে ব্রিটেনে
ডেইলি ভয়েস অব পিপল নিউজ, ৩ জানুয়ারি:
গত বছর ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ—যাকে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৪১,৪৭২ জন অনিয়মিতভাবে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটিশ ভূখণ্ডে পৌঁছান। এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৫,৭৭৪।
বছরের বড় অংশজুড়ে চ্যানেল পারাপারের হার ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যদিও ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসে এই প্রবণতা কিছুটা কমে আসে। তবুও সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার মানবপাচারকারী চক্র ‘চূর্ণ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে ‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ প্রত্যাবাসন চুক্তি করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ছোট নৌকায় আসাকে নিরুৎসাহিত করা।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “ছোট নৌকায় করে এত মানুষের আসা লজ্জাজনক। ব্রিটিশ জনগণ এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে দেশছাড়া করেছে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে এখন ছোট নৌকায় আসা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। তিনি বলেন, স্টারমারের পরিকল্পনা “পুরোপুরি ব্যর্থ” এবং “একটি প্রহসন”। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বছর আসা অনেক তরুণ পুরুষ ভবিষ্যতে ব্রিটিশ সমাজের জন্য “বড় ক্ষতির কারণ” হতে পারে।
এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছোট নৌকায় আসা বিদেশিরা নাকি অপরাধে বেশি জড়ান। তবে জুলাই মাসে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ফুল ফ্যাক্ট জানিয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির মতে—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রকাশ্য তথ্য নেই।
কনজারভেটিভদের ছায়া স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস ফিলিপ দাবি করেছেন, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে বেরিয়ে আসাই ছোট নৌকায় আগমন কমানোর একমাত্র উপায়। তার অভিযোগ, লেবার সরকার কেবল ‘উপরি সংস্কার’ করছে, যার ফলে মাত্র ৫ শতাংশ আগমনকারীকেই ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট–এর মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ক্ষমতা দিয়েছে। নতুন আইনে অতিরিক্ত ফৌজদারি অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই যাত্রায় নামা বেশিরভাগ মানুষই আফগানিস্তানে তালেবান শাসন কিংবা সুদানসহ বিভিন্ন দেশের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসছেন। তার ভাষায়, “নিরাপত্তার আশায় কেউ মরিয়া না হলে এমন ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় নামে না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত শরণার্থীদের শাস্তি দেয় এমন নীতি মানবিক নয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর প্রতিরোধও গড়ে তুলবে না।