৮০ থিংকট্যাংকের বিশ্লেষণ: কৌশলগত যুদ্ধে পিছিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইল
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২ এপ্রিল:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ। সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে—বিশ্বের ৮০টি প্রভাবশালী থিংকট্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এমনই চিত্র।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে তাৎক্ষণিক আঘাত হানতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদী রণকৌশলগত দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং তেহরানকে চাপে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। কিন্তু বাস্তবে এই লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জিত হয়নি।
বিশ্লেষণে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত বর্তমান সংঘাতে ইরানের আত্মরক্ষা কৌশলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের বদলে অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। ইরান অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়ে এই নৌপথে প্রভাব বজায় রেখেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নেও তেহরানের গুরুত্ব বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধটি এখন ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু রূপ নিচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই তা ইরানের পক্ষে অনুকূল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক কৌশলগত সংকটে পড়েছে, যেখানে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে হয় একটি প্রচারণামূলক বিজয় দেখাতে হবে, নয়তো বাস্তব কোনো অর্জন ছাড়াই সমাপ্তি টানতে হবে।
এই বিস্তৃত পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, কার্নেগি এন্ডোমেন্ট, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (সিএফআর), র্যান্ড কর্পোরেশন এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউস ও রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি), ইউরোপের এসআইপিআরআই ও ব্রুগেলসহ এশিয়ার চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ গবেষণা সংস্থাগুলোও এতে যুক্ত ছিল। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই বিশ্লেষণে অংশ নেয়।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত স্পষ্ট—যুদ্ধে কেবল শক্তি নয়, কৌশলই শেষ কথা। আর সেই জায়গাতেই প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।