‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

লন্ডনে রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগ মামলায় দুই কিশোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড

লন্ডনে রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগ মামলায় দুই কিশোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ অক্টোবর :

পূর্ব লন্ডনের গ্যান্টস হিলে একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই কিশোরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুজনের বয়স ১৭ বছর। বয়সের কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

২০২৫ সালের ২২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উডফোর্ড অ্যাভিনিউয়ের Indian Aroma রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ ওই হামলা চালানো হয়। সে সময় রেস্টুরেন্টে আটজন গ্রাহক খাবার খাচ্ছিলেন।

আদালতে বলা হয়, দুই কিশোর অস্ত্রসদৃশ মাচেটি নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢোকে। তাদের সঙ্গে আরও একজন ছিল। ওই ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের ভেতরে পেট্রলের ক্যান নিয়ে গিয়ে মেঝে ও টেবিলের ওপর পেট্রল ছড়িয়ে দেয়।

এরপর তিনজন পেছনে সরে গিয়ে দরজা প্রায় বন্ধ করে দেয়। একজন কাগজে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আগুনে ছয়জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে একটি তরুণ দম্পতির আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ওই নারীর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ ছিল গভীর দগ্ধ ক্ষত। তাঁকে চিকিৎসার জন্য কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। তাঁর স্বামীও আগুনে গুরুতর দগ্ধ হন; তাঁর শরীরের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় বিভিন্ন মাত্রার পোড়া ক্ষত হয়।

আদালতে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে আসে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। একজন ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গুরুতর দগ্ধ ওই দম্পতির চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও ছিল দীর্ঘ ও কঠিন।

দুই কিশোর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। পরে ছয় সপ্তাহের বিচার শেষে তারা জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ এবং ধারালো অস্ত্র রাখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়।

শুক্রবার লন্ডনের Old Bailey আদালতে সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মাইকেল গ্রিভ কেসি হামলাটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সংগঠিত বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া দুই কিশোর জানত যে এর ফলে অপরিচিত মানুষের গুরুতর আহত হওয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বিচারক আরও বলেন, তাঁর কাছে মনে হয়েছে, দুই কিশোরের পেছনে আরও বয়সী ও অভিজ্ঞ কোনো অপরাধী থাকতে পারে। তবে সেই ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশও জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

আদালত দুই কিশোরকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে আরও তিন বছরের বর্ধিত লাইসেন্স মেয়াদসহ extended sentence দিয়েছে। অর্থাৎ কারাগারের সাজা শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় তারা কঠোর নজরদারি ও আইনি শর্তের মধ্যে থাকবে।

আদালতে আইনজীবীরা দুই কিশোরের বয়স, তাদের পরিস্থিতি এবং ঘটনার পেছনে অন্য কারও প্রভাবের বিষয় তুলে ধরেন। একজনের আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেল ভুক্তভোগীদের কষ্টের জন্য দুঃখিত। তবে আদালত হামলার ভয়াবহতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত চালিয়ে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তৃতীয় যে ব্যক্তি হামলার সময় তাদের সঙ্গে ছিল, সে এই বিচার ও সাজা প্রক্রিয়ার অংশ হয়নি।

একটি সাধারণ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যাওয়া মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু কয়েকজন ব্যক্তিকে আহত করেনি, তাদের স্বাভাবিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের জন্য বদলে দিয়েছে। আদালতের শুনানিতে সেই ক্ষতির গভীরতাই বারবার উঠে এসেছে।