‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ব্রিটেনের রেলপথে সহিংসতা রেকর্ড উচ্চতায়, এক বছরে প্রায় ২৫ হাজার ঘটনা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৫ অক্টোবর :
ব্রিটেনের ট্রেন ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রী ও রেলকর্মীদের সঙ্গে সহিংস আচরণ, হুমকি ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রেট ব্রিটেনের মূল রেলপথে কর্মী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ওপর রিপোর্ট হওয়া হামলার সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে পৌঁছেছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অফিস অব রেল অ্যান্ড রোডের (ওআরআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মূল রেলপথে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ওপর ১৩ হাজার ৪৬৪টি হামলার ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ৩৬ শতাংশ বেশি এবং ২০০৪ সালে এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ শুরুর পর সর্বোচ্চ।

রেলকর্মীরাও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে পড়ছেন। একই সময়ে কর্মীদের ওপর ১১ হাজার ২৮৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ছিল শারীরিক হামলা—অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাতজন রেলকর্মী শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। আরও ৬ হাজার ৩৯০টি ঘটনায় কর্মীদের মৌখিকভাবে গালাগাল বা অপমান করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪১২টি ঘটনায় হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে হয়রানির ঘটনা এক বছরে ৫২ শতাংশ এবং সাধারণ হামলার ঘটনা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রেল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওআরআরের প্রধান রেলওয়ে পরিদর্শক রিচার্ড হাইনস বলেছেন, হামলার সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, রেলপথে কর্মরত কোনো ব্যক্তি যেন সহিংসতা, হুমকি বা অপমানজনক আচরণের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
রেল ইউনিয়নগুলো অবশ্য বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি রিপোর্ট হওয়া সংখ্যার চেয়েও গুরুতর হতে পারে। অনেক ঘটনা পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয় না। কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকা এবং রেলপথে পুলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের সদস্যসংখ্যা ২০২৪ সালের পর প্রায় ১০ শতাংশ কমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হামলার সংখ্যা বাড়ার একটি অংশের পেছনে রিপোর্টিং ব্যবস্থা উন্নত হওয়াও ভূমিকা রাখতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের আরও বেশি ঘটনা জানানোর জন্য উৎসাহিত করছে এবং শরীরে লাগানো ক্যামেরা, সিসিটিভি ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে পরিসংখ্যানে কিছুটা রিপোর্টিং বৃদ্ধির প্রভাব থাকলেও সামগ্রিকভাবে সহিংসতা বৃদ্ধির প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে বিবেচনা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পুলিশের অর্থায়ন ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ২০০-এর বেশি অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং সিসিটিভি ও শরীরে লাগানো ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি উন্নত করার কথা বলা হয়েছে।
লন্ডনের যাত্রীদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। মূল রেলপথের বাইরে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডেও ২০২৫-২৬ সালে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ২০ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫৩৪টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্ডারগ্রাউন্ডের কর্মীদের ওপর রিপোর্ট হওয়া হামলা ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৫২৫টিতে নেমেছে।
সব মিলিয়ে নতুন পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনের রেলব্যবস্থায় সমস্যা শুধু ট্রেনের সময়সূচি, ভাড়া বা বিলম্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাও এখন রেল ব্যবস্থার বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।