ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
আলঝেইমারসের নতুন ওষুধে কমতে পারে পরিচর্যার ব্যয়, হাজারো পরিবারে স্বস্তির আশা
ডেস্ক রিপোর্ট, ৫ আগস্ট: আলঝেইমারস রোগের জন্য উদ্ভাবিত নতুন প্রজন্মের ওষুধ শুধু রোগের অগ্রগতি ধীর করতেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে হাজারো পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে উপকৃত হবে, যা ওষুধের প্রাথমিক উচ্চমূল্যের চেয়েও বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রোগের অগ্রগতি কিছুটা বিলম্বিত করা গেলে অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় নিজ বাড়িতে স্বাধীনভাবে রাখা সম্ভব হবে। এতে কেয়ার হোমে ভর্তি, পূর্ণকালীন পরিচর্যা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া বা চাকরি ছেড়ে পরিচর্যায় যুক্ত হওয়ার চাপও কমে আসতে পারে।
তবে যুক্তরাজ্যে নতুন এসব ওষুধের ব্যাপক ব্যবহার এখনো অনিশ্চিত। কারণ, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়-সাশ্রয় বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সংস্থাগুলো ওষুধগুলোর উচ্চমূল্য নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের যুক্তি, বর্তমান দামে এসব ওষুধের খরচ ও প্রাপ্ত উপকারের মধ্যে ভারসাম্য এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়।
অন্যদিকে, গবেষকরা বলছেন, মূল্যায়নের সময় শুধু ওষুধের দাম বিবেচনা করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসে না। রোগী ও তাদের পরিচর্যাকারী পরিবারের আর্থিক সাশ্রয়, মানসিক চাপ হ্রাস, কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় কমার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলঝেইমারস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে কার্যকর চিকিৎসা রোগীর জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপও কমাতে পারে। তাই নতুন ওষুধগুলোর মূল্যায়নে সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে ওষুধের দাম কমানো বা নতুন মূল্যনির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা গেলে এসব চিকিৎসা আরও বেশি রোগীর নাগালে আসতে পারে। এতে শুধু রোগীরাই নয়, জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং পরিবারগুলিও দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবে।