দেশে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস: সতর্ক না হলে বাড়বে ঝুঁকি

দেশে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস: সতর্ক না হলে বাড়বে ঝুঁকি

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি : দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫ জেলায় প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সচেতন না হলে এই ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি—প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, শীত মৌসুম এলেই বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ে। গত দুই বছরে এই ভাইরাসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস মূলত কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। খেজুরের রসে বাদুড়ের লালা বা মলমূত্র মিশে গেলে সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরেও ভাইরাস ছড়াতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে প্রতিরোধই একমাত্র নিরাপদ পথ। এ কারণেই আইইডিসিআর ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় কেবল হাসপাতালের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে সাধারণ ভুল অভ্যাস থেকেই কেউ অপ্রয়োজনে প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে না পড়ে।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে যা অবশ্যই মানতে হবে—
কাঁচা খেজুরের রস কোনোভাবেই পান করা যাবে না।
পোকায় কাটা বা আংশিক খাওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফলমূল ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে।
জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা—নিপাহ ভাইরাসকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একটু অসচেতনতা, একটি ভুল অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিণতি। তাই নিজে সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।