যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, ই১/ই২ ভিসায় বাড়তি আর্থিক শর্ত
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৭ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত ই১ ও ই২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই তালিকায় বাংলাদেশের

সঙ্গে মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা যদি ই১ বা ই২ ভিসার জন্য অন্যান্য সব শর্ত পূরণ করেন, তবে তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। কোন আবেদনকারীকে কত টাকা জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবেন কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিসা বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে অভিবাসন আইন (আইএনএ) এর ২২১(ম)(৩) ধারা এবং একটি পরীক্ষামূলক ‘টেম্পোরারি ফাইনাল রুল’-এর আওতায়। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ই১/ই২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের হার তুলনামূলক বেশি, তাদের জন্য এই আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা প্রযোজ্য করা হয়েছে। এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে রিপোর্টের ভিত্তিতে।
ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নির্ধারিত ফর্ম আই-৩৫২ পূরণ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধ করতে হবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পে ডট গভ’-এর মাধ্যমে। কনস্যুলার কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশ ছাড়া কোনো আবেদনকারী বন্ড জমা দিতে পারবেন না। সরকার স্পষ্ট করেছে, তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নেবে না।
তবে বন্ড জমা দেওয়া মানেই যে ভিসা নিশ্চিত—তা নয়। কনস্যুলার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভিসা মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যান করা হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করলে, অথবা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কিংবা প্রবেশের অনুমতি না পেলে জমা দেওয়া বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, দেশ ত্যাগ না করা, কিংবা নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে ভিসা বন্ড ভঙ্গ হয়েছে বলে ধরা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ইউএসসিআইএসে পাঠানো হবে এবং বন্ড বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ই১ ও ই২ ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর করে তুলবে বলে মনে করছেন অভিবাসন–সংশ্লিষ্টরা।