ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
রাজনৈতিক অনুদানে নতুন কড়াকড়ি আনছে ব্রিটিশ সরকার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ জুলাই:
বিদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসা ভোটারদের বড় অঙ্কের রাজনৈতিক অনুদান দেওয়ার ওপর নতুন সীমা আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর প্রথম এক বছর কোনো ব্যক্তি বছরে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি রাজনৈতিক অনুদান দিতে পারবেন না।
নির্বাচনী রাজনীতিতে বিদেশি অর্থের প্রভাব কমানো এবং রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নতুন বিধিনিষেধ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
বর্তমানে বিদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রে বছরে ১ লাখ পাউন্ড সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, কেউ বিদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে এলেও সঙ্গে সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরই বড় অনুদান দেওয়ার অনুমতি মিলবে।
বড় দাতাদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে Reform UK দলের কয়েকজন বড় দাতার ওপর।
থাইল্যান্ডভিত্তিক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী Christopher Harborne গত বছর রিফর্ম ইউকেকে ৯ মিলিয়ন পাউন্ডের একক অনুদান দিয়েছিলেন। এটি ছিল যুক্তরাজ্যের কোনো রাজনৈতিক দলকে দেওয়া সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অনুদানগুলোর একটি। ২০২৫ সালে তিনি দলটিকে মোট ১২ মিলিয়ন পাউন্ড দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরও ৩ মিলিয়ন পাউন্ড দেন।
আরেক বড় দাতা ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোক্তা Ben Delo চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিফর্ম ইউকেকে ৪ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দিয়েছেন।
দুজনেরই যুক্তরাজ্যে ফিরে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দেশে ফেরার পর প্রথম এক বছর তারা ১ লাখ পাউন্ডের বেশি দিতে পারবেন না।
কোম্পানির অনুদানেও কঠোর যাচাই
সরকার শুধু ব্যক্তিগত অনুদান নয়, কোম্পানির দেওয়া রাজনৈতিক অর্থের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম আনছে।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানি রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেওয়ার আগে তার গত পাঁচ বছরের কর পরবর্তী মুনাফা বিবেচনা করা হবে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে কেবল প্রকৃত যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ও বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোই রাজনৈতিক অর্থায়নে অংশ নিতে পারবে।
প্রার্থীদের অর্থের উৎস প্রকাশ বাধ্যতামূলক
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরও তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
কেউ প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পাওয়ার আগেই যদি বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেন, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে তা যাচাই করতে হবে। ২ হাজার ২৩২ পাউন্ডের বেশি অনুদান প্রার্থী হওয়ার আগেও ঘোষণা করতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, এসব পরিবর্তন Representation of the People Bill-এর সংশোধনী হিসেবে সংসদে তোলা হবে।
সরকারের বক্তব্য
কমিউনিটিজ সেক্রেটারি Steve Reed বলেছেন, ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে অর্থের প্রভাব থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, নতুন নিয়ম সন্দেহজনক অর্থায়ন বন্ধ করবে, বিদেশি প্রভাব কমাবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে।
সরকারের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে করা একটি পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনাটি পরিচালনা করেন সাবেক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা Philip Rycroft।
বিরোধীদের অভিযোগ
তবে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে রিফর্ম ইউকে। দলটির অভিযোগ, নতুন নিয়মের মাধ্যমে তাদের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলের অর্থ সংগ্রহের পথ কঠিন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈধভাবে দেওয়া রাজনৈতিক অনুদানের ওপর এমন সীমাবদ্ধতা গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই এই নতুন উদ্যোগ এসেছে। সরকার এটিকে গণতন্ত্র রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।