ব্রেক্সিট নিয়ে জন মেজরের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, ভিডিও দেখেছেন ৭৫ লাখের বেশি মানুষ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ জুলাই:
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ জুলাই:
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ব্রেক্সিট নিয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। অনলাইনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারটি অল্প সময়ের মধ্যেই ৭৫ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিটের এক দশক পূর্তিকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্কই এই বিপুল আগ্রহের অন্যতম কারণ।
সাক্ষাৎকারে জন মেজর বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে জনগণের কাছে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই পূরণ হয়নি। তার ভাষায়, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি এখনও ব্রেক্সিটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহন করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জন মেজরের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্রিটিশ ব্যবসা ও শিল্পখাতের স্বার্থে ইউরোপের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।
সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী তার বক্তব্যকে "বাস্তবতাভিত্তিক" ও "সময়োপযোগী" বলে অভিহিত করেছেন। আবার ব্রেক্সিটপন্থীরা তার মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, ব্রেক্সিটের পূর্ণ সুফল পেতে আরও সময় প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ব্রেক্সিট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আবার বেড়েছে। ফলে জন মেজরের মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন নতুন করে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে মতভেদ এখনও স্পষ্ট। তবে এক দশক পরও বিষয়টি যে দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে, জন মেজরের বহুল আলোচিত এই সাক্ষাৎকার সেটিই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ