গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় বিভক্ত ইসরায়েল, অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় বিভক্ত ইসরায়েল, অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৭ জুলাই:  ইসরায়েলের সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন ক্রমেই গভীর হচ্ছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক নাগরিক আশঙ্কা করছেন, চলমান অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা একসময় গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন এমন ঝুঁকি ‘বাস্তব ও গুরুতর’।

জিউয়িশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট (JPPI)-এর পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে, ইসরায়েলি সমাজ বর্তমানে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত বছরটি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ‘খারাপ বছর’ ছিল। একই সঙ্গে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী নন।

শুধু সামাজিক বিভাজন নয়, রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ছে। জরিপে ৫২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা বা হত্যাচেষ্টার সম্ভাবনা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

JPPI-এর প্রেসিডেন্ট ইয়েদিদা স্টার্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েলি সমাজ এখনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়তা ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সমাজের ভেতরের বিভাজন দেশকে ভঙ্গুর করে তুলছে।

স্টার্নের ভাষায়, ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ এখন অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকেই দেশের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। তার মতে, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক সংহতি পুনর্গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ইসরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধ শুরুর আগেই ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। বিশেষ করে বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছিল।

তবে ২০২৩ সালের পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে রাজনৈতিক বিরোধ অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের প্রতি সমর্থনের একটি অংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সময় অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে সাময়িকভাবে শক্তিশালী করেছে।

কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—দেশের নিরাপত্তা, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরের সংঘাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভাজনও এখন ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।