ফারাজকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, নেতৃত্ব সংকটে রিফর্ম ইউকে?

ফারাজকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, নেতৃত্ব সংকটে রিফর্ম ইউকে?

লন্ডন, ৭ জুলাই: যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজ এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে হতাশাজনক ফল, আর্থিক অনুদান নিয়ে তদন্ত এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন—সব মিলিয়ে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফারাজের জনসম্মুখে উপস্থিতি কমে গেছে। দলীয় অনেক কর্মী ও সাবেক নেতার দাবি, তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত এবং দলীয় কার্যক্রমেও কম সক্রিয়। তবে ফারাজের ঘনিষ্ঠরা এসব জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, টানা নির্বাচনী প্রচারণার পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়াই স্বাভাবিক, নেতৃত্ব ছাড়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৪ সালে এক ক্রিপ্টো ধনকুবেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের অনুদান, যা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি এখন সংসদীয় মানদণ্ড কমিশনারের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তদন্তে বিরূপ সিদ্ধান্ত এলে ফারাজ সংসদ সদস্য হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত হতে পারেন, এমনকি তার নির্বাচনী এলাকায় উপনির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

এদিকে দলের ভেতরেও নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ, সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী রবার্ট জেনরিখ এবং নীতিনির্ধারণী প্রধান জেমস ওরকে ঘিরে নানা ধরনের ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দলের ভেতরে কে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবেন—সে প্রশ্নও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে সাবেক রিফর্ম এমপি রূপার্ট লো এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম Restore Britain সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রিফর্ম ইউকের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং দলটির ভোটভিত্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

দলের কিছু সাবেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব রয়েছে এবং নতুন-পুরোনো নেতাদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে। আবার কয়েকজন দাতা মনে করছেন, দলটি এখনো সুসংহত নীতিমালা উপস্থাপন করতে পারেনি; কেবল জনপ্রিয় স্লোগান দিয়ে জাতীয় নির্বাচন জেতা সম্ভব হবে না।

তবে রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, দল ভাঙনের খবর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কল্পনা মাত্র। তাদের দাবি, দল আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা সমঝোতার পরিকল্পনাও নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফারাজ যদি শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব ছেড়ে দেন, তাহলে রিফর্ম ইউকে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকটে পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে অনেকের ধারণা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ফারাজ লড়াই চালিয়ে যেতে অভ্যস্ত। ফলে তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।