ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
দেশের প্রযুক্তিখাতে নতুন গতি: কালিয়াকৈর থেকে দুবাই পর্যন্ত বিস্তারে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৫ জুলাই:
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৫ জুলাই:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রবেশের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশের প্রযুক্তিখাতে নতুন এক অবস্থান তৈরি করছে Daffodil Computers Limited। স্থানীয় উৎপাদন, শিক্ষা খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—এই চারটি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটি একটি সমন্বিত ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তুলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হাইটেক পার্কে প্রায় ৩ লাখ বর্গফুটের একটি আধুনিক উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ অ্যাসেম্বলিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে উৎপাদন ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সরকারি, কর্পোরেট ও শিক্ষা খাতে বড় অর্ডার বাজারে কোম্পানিটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ। শিক্ষা খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে Daffodil International School, যেখানে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্র্যান্ডভ্যালুর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গঠনে কাজ করছে ‘স্কিল জবস’ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে কোম্পানির শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের জন্য দক্ষ জনবল সরবরাহ করবে।
খুচরা ও সেবা খাতে কোম্পানির উপস্থিতি রয়েছে ‘ডলফিন কম্পিউটার্স’ নামের বিক্রয় ও সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, যা সরাসরি গ্রাহক ও কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুবাইয়ে একটি শাখা চালুর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের প্রযুক্তি বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে কোম্পানিটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ড্রোন প্রযুক্তি, ক্লাউড সলিউশন এবং ডাটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি খাতে প্রবেশ কোম্পানিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আইটি ও হার্ডওয়্যার ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, কোম্পানির স্থাবর সম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে এর নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে উৎপাদন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজার—এই চারটি খাতে একসঙ্গে এগোনোর মাধ্যমে Daffodil Computers Limited দেশের প্রযুক্তিখাতে একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।