ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাজ্য: £46 বিলিয়ন ব্যয়ের HS2–তে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাজ্য: £46 বিলিয়ন ব্যয়ের HS2–তে নতুন বিতর্ক

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৫ জুলাই:

যুক্তরাজ্যের বহুল আলোচিত উচ্চগতির রেল প্রকল্প HS2 এখন নতুন এক বিতর্কে জর্জরিত। প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই প্রায় £46.8 বিলিয়ন ব্যয় করেছে, কিন্তু সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে খরচ হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়। আর সেই অজানাকে খুঁজতেই এবার খরচ হয়েছে আরও কোটি কোটি পাউন্ড।

সরকারি সংস্থা HS2 Ltd জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা শুধুমাত্র পরামর্শক (consultants) নিয়োগেই ব্যয় করেছে প্রায় £77.8 মিলিয়ন। বিস্ময়করভাবে, এই ব্যয়ের একটি বড় অংশই ব্যবহার করা হয়েছে প্রকল্পে এতদিন কী কাজ হয়েছে, সেই তথ্য পুনরুদ্ধার ও বিশ্লেষণের জন্য।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বহু চুক্তি ও কাজের রেকর্ড পরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত হয়নি। ফলে এখন “কী কাজ হয়েছে এবং কতটা হয়েছে”—তা নির্ধারণ করতেই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হচ্ছে।

HS2 প্রকল্পের মোট খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। পরিবহন সচিব জানিয়েছেন, প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় হতে পারে £87.7 বিলিয়ন থেকে £102.7 বিলিয়ন পর্যন্ত। তবে HS2 কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৃত চূড়ান্ত হিসাব ২০২৭ সালের আগে পাওয়া যাবে না।

ন্যাশনাল অডিট অফিস (NAO) ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় ও অগ্রগতির মধ্যে “উচ্চ মাত্রার অনিশ্চয়তা” রয়েছে। একই সঙ্গে লন্ডনের ইউস্টন স্টেশন পর্যন্ত পুরো পরিষেবা চালু হতে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনের বাইরে জমি ও সম্পত্তিও কেনা হয়েছে। প্রায় 18 বর্গকিলোমিটার জমি এবং 1,256টি সম্পত্তি কেনা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক অংশ বাতিল হওয়া উত্তরাঞ্চলীয় রুটের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব সম্পত্তি কেনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় £643 মিলিয়ন। এখন এর মধ্যে প্রায় 560টি সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে, যার ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয় প্রক্রিয়াতেই অতিরিক্ত খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

HS2 Ltd বলছে, বর্তমানে তারা প্রকল্পটিকে “reset” বা নতুনভাবে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় £153 মিলিয়ন পর্যন্ত। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যয় ভবিষ্যতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়িয়ে এবং অপচয় কমিয়ে নিজেই ফেরত আসবে।

HS2-এর বর্তমান প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু নির্মাণ মাইলস্টোন সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, শুরু থেকেই দুর্বল পরিকল্পনা, খণ্ডিত সিদ্ধান্ত এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতাই এই প্রকল্পকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

HS2 প্রকল্পটি প্রথমে লন্ডন থেকে বার্মিংহাম হয়ে ম্যানচেস্টার ও লিডস পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যয় ও পরিকল্পনা সংকটের কারণে পরবর্তী ধাপে তা সীমিত করে শুধু লন্ডন–বার্মিংহাম অংশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে—এত বিশাল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি কতটা, এবং ভবিষ্যতে ব্রিটিশ করদাতাদের আর কত মূল্য দিতে হবে এই “অধরা হিসাবের” জন্য।