ভাল কাজের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৮ মার্চ: নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন দেশের অভিবাসন প্রবণতার এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি সিডনিতে সপরিবারে নতুন ঘর খুঁজতে দেখা গেছে আরডার্নকে, যা দেখাচ্ছে যে শুধু রাজনৈতিক নেতাই নয়, মধ্যবয়সী নাগরিকরাও দেশের সীমিত সুযোগের কারণে নতুন জীবন খুঁজছেন।
তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ৩০–৫০ বছর বয়সী নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের দেশত্যাগের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আগে মূলত তরুণরা অভিজ্ঞতার জন্য বিদেশ যেত, এখন স্থিতিশীল ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে মধ্যবয়সীরা অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।
গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেছে, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়া এই বয়সের মানুষ দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে দেশান্তরী হন না।
নিউজিল্যান্ডের আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থবির অর্থনীতি এই অভিবাসনের মূল কারণ। জেসিন্ডা আরডার্নের পরিবার মেলবোর্নে পাড়ি জমিয়েছে, যেখানে স্বামীর বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, নিত্যপণ্য ও চিকিৎসার খরচ কমে গেছে। সপ্তাহে বাজারের খরচ ৪০০ ডলার থেকে ২৬৭ ডলারে নেমেছে এবং যাতায়াতের খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ডাক্তার দেখানোর জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করার পরিবর্তে, অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র একদিনেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ধূসর। গত দুই বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক, বেকারত্বের হার দশ বছরের সর্বোচ্চ। আবাসন খাতে বড় ধস, অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের ঘরের দাম ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। সরকারি চাকরিতে ধারাবাহিক ছাঁটাইয়ের ফলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিচ্ছেন।
যদিও নিউজিল্যান্ডে ভারত, ফিলিপাইন ও চীন থেকে অভিবাসীরা আসছেন, তবু অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেন মনে করছেন এটি কোনো সুষম বিনিময় নয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের দেশ ত্যাগের কারণে উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দশকের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও মেধা হারিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক ইঞ্জিন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যারা দেশ ছাড়ছেন, তারা এখনও নিজেদের গর্বিত কিউই হিসেবে দেখেন, তবে এখন বিদেশের মাটিতে নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করছেন।