স্টারমারের নেতৃত্বে ফাটল: লেবারের ভেতরেই “সুশৃঙ্খল বিদায়” দাবি

স্টারমারের নেতৃত্বে ফাটল: লেবারের ভেতরেই “সুশৃঙ্খল বিদায়” দাবি

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক রিপোর্ট, ৮ মে : 

ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ফলাফল প্রকাশের পর তা যেন বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। একের পর এক কাউন্সিল হারানো, স্কটল্যান্ডে ব্যর্থতা, ইংল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির উত্থান—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখন নিজের দলেই চরম চাপের মুখে।

লেবারের একাধিক এমপি প্রকাশ্যেই দাবি তুলেছেন—স্টারমারকে এখনই পদত্যাগ না করলেও অন্তত “সুশৃঙ্খল বিদায়ের” সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। কারণ তাদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি নির্বাচনী ধাক্কা নয়; এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে ক্ষমতার ভিত্তি বদলে যাওয়ার সংকেত।

স্টারমার অবশ্য এখনই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেছেন, “আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে চলে যাব না।” কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দরজা বন্ধ হলেও ভবিষ্যতের ‘ম্যানেজড এক্সিট’-এর ইঙ্গিত পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

লেবার এমপি গ্রাহাম স্ট্রিংগার সরাসরি বলেছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রয়োজন। তার মতে, নীতিগত বিতর্ক ছাড়া শুধুই নেতৃত্ব বদল করলে তা “একটি হাস্যকর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়” পরিণত হতে পারে।

অন্যদিকে সাবেক লেবার চেয়ারম্যান ইয়ান লাভেরি আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, স্টারমার নেতৃত্বে থাকলে “লেবার পার্টিই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” তাই তিনি “সংগঠিত প্রত্যাহার”-এর আহ্বান জানিয়েছেন।

স্কটল্যান্ডেও লেবারের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ। Anas Sarwar স্বীকার করেছেন, “আমরা পরিবর্তনের পক্ষে মানুষের কাছে যুক্তি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছি।” অন্যদিকে John Swinney-এর নেতৃত্বে Scottish National Party আবারও স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে।

এদিকে ইংল্যান্ডের বহু ঐতিহাসিক লেবার ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে Reform UK। দলটির নেতা Nigel Farage এটিকে “ব্রিটিশ রাজনীতির ঐতিহাসিক পরিবর্তন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে দলটি ইতোমধ্যে শত শত কাউন্সিলর জিতেছে এবং তারা দাবি করছে—এ ধারা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে।

লেবারের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন দাতা Unite the Union-এর প্রধান শ্যারন গ্রাহামও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তার মতে, শ্রমজীবী মানুষকে লেবার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করেছে এবং এবার ভোটাররা তার জবাব দিয়েছেন ব্যালট বাক্সে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “পরিবর্তন নয়তো মৃত্যু”—এখন লেবারের সামনে এটাই বাস্তবতা।

আরেকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ব্লু লেবার এই ফলাফলকে “ঐতিহাসিক হৃদয়ভূমিতে রক্তক্ষয়” বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, লেবার এখন সাধারণ মানুষের দল না হয়ে “ব্যর্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক” হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় কাউন্সিলের হিসাব বদলায়নি; বরং ব্রিটিশ রাজনীতির পুরোনো দুই-দলীয় কাঠামোও ভেঙে পড়ার সংকেত দিয়েছে। একদিকে রিফর্ম, অন্যদিকে গ্রিন ও আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান দেখিয়ে দিচ্ছে—ভোটাররা আর আগের রাজনৈতিক সমীকরণে বন্দি থাকতে চাইছেন না।

এখন বড় প্রশ্ন হলো—স্টারমার কি দলকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, নাকি লেবারের ভেতর থেকেই তার বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে?