লন্ডন নির্বাচন ২০২৬ : লন্ডন স্থানীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক উথাল-পাথাল

লন্ডন নির্বাচন ২০২৬ : লন্ডন স্থানীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক উথাল-পাথাল

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৮ মে:

লন্ডনজুড়ে ৩২টি বরোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনে এবার ভোট দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মোট ১,৮১৭টি কাউন্সিল আসন এবং একাধিক মেয়র নির্বাচন ঘিরে রাজধানীর রাজনীতি এবার এক ধরনের নতুন মোড় নিয়েছে।

প্রাথমিক ও রাতভর ঘোষিত ফলাফল বলছে, লন্ডনের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে—কোথাও লেবারের ক্ষতি, কোথাও কনজারভেটিভদের পুনরুত্থান, আবার কোথাও রিফর্মের চমকপ্রদ অগ্রগতি।

টাওয়ার হ্যামলেটস: এখনো সবচেয়ে আলোচিত অপেক্ষা

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর যেসব বরোর দিকে, তার মধ্যে অন্যতম পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল।

বাংলাদেশি-ব্রিটিশ কমিউনিটির অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই বরোতে মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আগে থেকেই তুঙ্গে ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য, কমিউনিটি রাজনীতি এবং জাতীয় দলের প্রভাব—সব মিলিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। ফলে পুরো লন্ডনের রাজনৈতিক রাতের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এই বরো ঘিরেই:
কে বসবে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়রের চেয়ারে?

এখানকার ফলাফল শুধু স্থানীয় নয়, বরং লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়েও বড় ইঙ্গিত দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এবার সবচেয়ে বেশি।

ওয়েস্টমিনস্টার

কনজারভেটিভ: ৩২ (+৮)
লেবার: ২২ (-৬)

লেবারের কাছ থেকে সরাসরি কাউন্সিল দখল করেছে কনজারভেটিভরা—এটি রাজধানীর কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেক্সলি

কনজারভেটিভ: ২৭ (-৪)
লেবার: ৭ (-৩)
রিফর্ম ইউকে: ৭ (+৭)
এখনো ৫ আসন বাকি

কনজারভেটিভরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও রিফর্ম ইউকে-র প্রবেশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

হ্যাভারিং

রিফর্ম ইউকে: ৩৯ (+৩৬)
Residents’ Association: ১৪ (-১৫)
লেবার: ২ (-৬)
কনজারভেটিভ: ০ (-১৪)
স্বতন্ত্র: ০ (-১)

এটি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক—রিফর্ম ইউকে এককভাবে কাউন্সিল দখল করেছে।

কেনসিংটন ও চেলসি

কনজারভেটিভ: ৩৪ (-২)
লেবার: ১৩ (+৬)
লিবারেল ডেমোক্র্যাট: ৩ (+১)
গ্রিন ও স্বতন্ত্র: ০

ধনাঢ্য এই এলাকায় কনজারভেটিভদের অবস্থান এখনও শক্ত।

ইলিং

লেবার: ৪৬ (-১০)
লিবারেল ডেমোক্র্যাট: ১৩ (+৫)
গ্রিন: ৫ (+১)
কনজারভেটিভ: ৫ (+১)

লেবার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ওয়ান্ডসওয়ার্থ

কনজারভেটিভ: ২৯ (+৮)
লেবার: ২৮ (-৬)
স্বতন্ত্র: ১ (-১)

ঝুলন্ত কাউন্সিল—কারও একক নিয়ন্ত্রণ নেই।

মার্টন

লেবার: ৩২ (+২)
লিবারেল ডেমোক্র্যাট: ১৯ (+২)
কনজারভেটিভ: ৪ (-৩)
স্বতন্ত্র: ২

লেবার এখানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহাম

লেবার: ৩৮ (+১)
কনজারভেটিভ: ১২ (+২)

লেবার তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে।

এখনো ঘোষণা বাকি গুরুত্বপূর্ণ বরোগুলো

বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম, বারনেট, ব্রেন্ট, ব্রোমলি, ক্যামডেন, এনফিল্ড, গ্রিনউইচ, হ্যারো, হ্যারিঙ্গে, হিলিংডন, হাউনসলো, আইলিংটন, কিংস্টন, ল্যামবেথ, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট।

লন্ডনের এই নির্বাচন স্পষ্ট করে দিচ্ছে—রাজনৈতিক স্থিরতা এখন অতীত। ভোটাররা একদিকে পুরনো দলগুলোকে শাস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে নতুন শক্তিকে জায়গা করে দিচ্ছে।

তবে পুরো গল্পের শেষ এখনও লেখা হয়নি—কারণ নজর এখন এক জায়গায়: টাওয়ার হ্যামলেটস