ওয়েলসের রাজনীতিতে ভূমিকম্প: সিট হারালেন ফাস্ট মিনিস্টার, পদত্যাগ করলেন লেবার নেতা
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৮ মে:
ওয়েলসের রাজনীতিতে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা ঘটেছে। টানা নির্বাচনী বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে প্রথমবারের মতো সিট হারালেন ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন ওয়েলশ লেবারের নেতৃত্ব থেকে। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়েছে।
ওয়েলসের Ceredigion Penfro আসনে পরাজিত হন Eluned Morgan, যিনি Baroness Morgan of Ely নামেও পরিচিত। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসে প্রথম বর্তমান ওয়েলশ নেতা হিসেবে সেনেড (Welsh Parliament)-এ নিজের আসন হারালেন।
পরাজয়ের পর বিদায়ী বক্তব্যে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, সরকারের এখনই “দিক পরিবর্তন” করা প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে বড় ধরনের নির্বাচনী ধাক্কা খাচ্ছে Welsh Labour। সর্বশেষ ফলাফল ও পূর্বাভাস অনুযায়ী, দলটি ওয়েলসের সেনেডে নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওয়েলসে শক্ত অবস্থানে থাকা লেবারের জন্য এটি এক বড় রাজনৈতিক পতনের ইঙ্গিত।
অন্যদিকে, ওয়েলশ জাতীয়তাবাদী দল Plaid Cymru এখন সেনেডে সবচেয়ে বড় দল হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে আছে। এটি ওয়েলসের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেবার পার্টি ১৯৯৯ সালে সেনেড প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়েলসের ক্ষমতায় প্রধান শক্তি হিসেবে ছিল। এর আগেও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়েলসকে লেবারের ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচনী ফল সেই দীর্ঘ আধিপত্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার স্টারমারের ওপর। ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এবং দলের ব্যাকবেঞ্চ এমপিরা সরাসরি তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন। তাদের মতে, দল “রাজনৈতিক বিলুপ্তির” মুখে পড়তে পারে যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসে।
তবে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরও কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি “কোনোভাবেই সরে যাচ্ছেন না”।
ওয়েলসের এই ফলাফল এখন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, বরং পুরো যুক্তরাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লেবারের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে এমন ধস আগামী দিনের রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।