চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অভিবাসী সংখ্যা ২ লাখ ছাড়াল—ব্রিটেনের অভিবাসন সংকটে নতুন চাপ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ মে :
ব্রিটেনে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু আবারও রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন তথ্যে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেলl পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ডোভারে একদল আশ্রয়প্রার্থী পৌঁছানোর পর এই মাইলফলক অতিক্রম করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে ডোভার উপকূলে প্রায় ৭০ জন অভিবাসীকে একটি বোর্ডার ফোর্স জাহাজ থেকে নামতে দেখা যায়। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে সংকট শুরুর পর থেকে ছোট নৌকায় আগত মোট সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি হয়েছে।
রেকর্ড বৃদ্ধি ও নীতি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি ও গবেষণা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাত্র ২৯৯ জন এই পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিল। এরপর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে—২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৪৫,৭৭৪ জন পৌঁছায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে ৪১,৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
Migration Watch UK-এর চেয়ারম্যান আলপ মেহমেত বলেন, “২০০,০০০-এর বেশি আগমন ঘটেছে, অথচ খুব অল্পসংখ্যকই ফেরত পাঠানো হয়েছে। কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই।”
রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকার
এই পরিস্থিতি ঘিরে প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর ওপর চাপ বাড়ছে। স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অভিবাসন ইস্যুটি সরকারকে আরও কোণঠাসা করেছে।
বিরোধী শিবির থেকে তীব্র সমালোচনা এসেছে। কনজারভেটিভ শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ দাবি করেন, বর্তমান ব্যবস্থা “পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে” এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যত অকার্যকর।
অন্যদিকে, কড়া অভিবাসন নীতির পক্ষে জনমত কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিকভাবে উত্থান ঘটাচ্ছে Reform UK। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু দলটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লন্ডনেও রাজনৈতিক প্রভাব
অভিবাসন ইস্যুর রাজনৈতিক ঢেউ শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, স্থানীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। লন্ডনের মেয়র Sadiq Khan এবং লেবার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা মন্ত্রী David Lammy সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ভুল বক্তব্য দেওয়ায় নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
নীতিগত বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
সরকার দাবি করছে, মানবপাচার চক্র ভাঙতে নতুন আইন ও আন্তর্জাতিক সমঝোতা কাজ করছে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল এবং ফেরত পাঠানোর হার অত্যন্ত কম।
পরিসংখ্যান বলছে, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা প্রায় ৯৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ০.৫ শতাংশকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ অবস্থায় ব্রিটেনের অভিবাসন নীতি এখন এক জটিল রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে—যেখানে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত।