আগামী দিনে দেশ নিয়ে তারেক রহমানের বিভিন্ন প্লান
ঢাকা, ১০ জানুয়ারি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নেতৃত্বে আসলে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিতে চান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা তর্কবিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সংবিধান ও আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান—এগুলোই দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারীরা ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, নারীদের হাতে অর্থ গেলে তা মূলত পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
কৃষকদের জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, জমির মালিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যা সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে ভর্তুকি এবং সহায়তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে বিদেশে পাঠানো জনশক্তির আয় ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বন্ড সুবিধা চালুর কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিরোধই প্রতিকার’ নীতিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০–৮৫ শতাংশ নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টি ও জীবনযাপন সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন।
আইটি খাত ও তরুণদের জন্য তিনি বলেন, দেশের আইটি পার্কগুলোতে ছোট অফিস স্পেস ও ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হবে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা সহজ করা হবে, যাতে তাদের আয় দেশে আসতে পারে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে, তাই দেশ গঠনের কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সংক্ষেপে, তারেক রহমানের পরিকল্পনা শুধু রাজনৈতিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রাত্যহিক জীবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং প্রবাসী কল্যাণ—এসব মূল ভিত্তি করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।