ইরান যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ—নাকি নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরান যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ—নাকি নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ভয়েস অব পিপল | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আপাতত কিছুটা থেমে থাকলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী, নাকি এটি কেবল একটি কৌশলগত বিরতি? বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে।

একজন সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা রবার্ট ক্যাম্পবেল মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হলে বড় রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং “নীরব চলাচল”—অর্থাৎ কার্গো ও রিফুয়েলিং বিমানের গতিবিধি লক্ষ্য করতে হবে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতির আড়ালে সামরিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক নজর রয়েছে জেডি ভ্যান্স–এর পাকিস্তান সফরের দিকে। তিনি ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের আলোচক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ। তবে যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত প্রযোজ্য কি না এবং হরমুজ প্রণালী এখনো বন্ধ থাকায় আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত চলমান থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন দ্রুত হরমুজ প্রণালীর সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। কারণ এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিজ্ঞতার আলোকে রবার্ট ক্যাম্পবেল আরও বলেন, ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ লেবাননে কাজ করার সময় তিনি দেখেছেন, হিজবুল্লাহর মতো শক্তিকে মোকাবিলা করা সহজ নয়—এখানে কোনো “দ্রুত সমাধান” নেই।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও প্রকৃত শান্তি এখনো অনেক দূরের পথ। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সামরিক প্রস্তুতির জটিল সমীকরণই নির্ধারণ করবে—এই যুদ্ধ সত্যিই শেষ, নাকি এটি কেবল আরেকটি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস।