ফেইসবুকের ফাঁদে গিয়ে রাশিয়া : অনেক তরুণ গিয়েছে ফাঁসিয়া
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ মে:
ফেসবুকের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে স্বপ্নের চাকরির বিজ্ঞাপন—বড় অঙ্কের বেতন, সহজ কাজ, উন্নত জীবন। চোখে স্বপ্ন, মনে আশা। কিন্তু সেই ভার্চুয়াল আশার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক নির্মম বাস্তবতা—যুদ্ধ, মৃত্যু আর প্রতারণার অন্ধকার।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ফেসবুকে পাওয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশের বহু তরুণ রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের অনেকেই পরে জড়িয়ে পড়েছেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায়, যেখানে কাজের প্রতিশ্রুতি বদলে গেছে অস্ত্র হাতে মৃত্যুর ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতায়।

একজন প্রত্যাগত তরুণের ভাষায়, “আমরা ভেবেছিলাম ইলেকট্রনিক্স বা সাধারণ শ্রমিকের কাজ করবো। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ সরাসরি ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়েছে।”
Facebook-এ ছড়িয়ে পড়া এসব ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞাপন মূলত মানবপাচার চক্রেরই একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে তরুণদের নেওয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপের নাম ব্যবহার করে, পরে তাদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে “দ্রুত বিদেশে চাকরি”, “উচ্চ বেতন” বা “ভিসা ছাড়াই কাজ” ধরনের বিজ্ঞাপনই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। অনেক সময় এজেন্টরা ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রাথমিক বিশ্বাস অর্জন করে, এরপর ধাপে ধাপে তরুণদের এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।

বর্তমানে Russia–Ukraine war চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের ব্যবহার করার অভিযোগও উঠছে, যাদের অনেকেই জানতেন না তারা সরাসরি সামরিক ঝুঁকিতে পড়বেন।
পরিবারগুলোর জন্য এই খবর যেন এক দুঃস্বপ্ন। এক মা বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভালো জীবনের জন্য। এখন জানি না সে বেঁচে আছে নাকি নেই।”
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই প্রবণতা এখনই বন্ধ না করা গেলে আরও বহু তরুণ একইভাবে প্রতারণার শিকার হবে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো, যাচাই ছাড়া চাকরির বিজ্ঞাপন বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
ফেসবুকের ফিডে দেখা সেই “স্বপ্নের চাকরি” এখন অনেক পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে—যেখানে প্রতারণার শেষ পরিণতি কখনো ফিরে না আসার যাত্রা।