শিয়ালের কাছে মুরগি বাগি, ইউরেনিয়াম আমরা রাখি : রাশিয়া

শিয়ালের কাছে মুরগি বাগি,  ইউরেনিয়াম আমরা রাখি : রাশিয়া

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১১ মে: 

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান দৃশ্যপট অনেকটা গ্রামবাংলার পুরনো কৌতুকের মতোই শোনায়—মুরগি নিজেই শিয়ালের হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিচ্ছে, আর শিয়াল বলছে, “চিন্তা করো না, পাহারায় আমি আছি।”

এই উপমা যেন হঠাৎ করেই নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘোষণায়। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের দায়িত্ব আবারও নিজেদের হাতে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আস্থাহীনতার সম্পর্ক যখন বারবার উত্তপ্ত, তখন মস্কোর এই “আমরাই রাখি” প্রস্তাব নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়ার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার—আগেও তারা এই দায়িত্ব পালন করেছে, ২০১৫ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম বাইরে সরিয়ে সংরক্ষণও করেছে। তাই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবারও তারা একই ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে পৃথিবীতে আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় সংকট, সেখানে “সংরক্ষণকারী” কতটা নিরপেক্ষ থাকে?

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই পরিস্থিতিকে দেখছেন ব্যঙ্গাত্মকভাবে। তাদের মতে, এটা অনেকটা এমন—মুরগি নিজেই শিয়ালকে বলছে, “তুমি আমার খামার পাহারা দাও, আমি নিশ্চিন্তে থাকি।”

কারণ, রাশিয়া একদিকে যেমন কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চায়, অন্যদিকে আবার নিজেই একটি বড় ভূরাজনৈতিক শক্তি, যার নিজস্ব স্বার্থ, কৌশল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে রাশিয়া

ফলে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের এই প্রস্তাব শুধুই প্রযুক্তিগত বা নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি একই সঙ্গে আস্থা, ক্ষমতা এবং রাজনীতির জটিল হিসাব।

পুতিনের ভাষায় এটি সমাধানের পথ। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় অনেকেই দেখছেন এটি আরেকটি নতুন সমীকরণের শুরু।

কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—পারমাণবিক উপাদান শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, এটি রাজনৈতিকও। আর রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, শুধু বদলে যায় পক্ষ আর স্বার্থ।

এই অবস্থায় “শিয়ালের কাছে মুরগি বাগি” কথাটা শুধু কৌতুক নয়, বরং এক ধরনের সতর্কবার্তা—যেখানে আস্থার বদলে যদি নির্ভরতা তৈরি হয়, তাহলে ফলাফল সবসময় নিশ্চিন্ত হয় না।