দলে বিদ্রোহ, চাপে স্টারমার

লেবারের ভরাডুবির পর নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জনে উত্তাল বৃটিশ রাজনীতি

লেবারের ভরাডুবির পর নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জনে উত্তাল বৃটিশ রাজনীতি

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ মে: 

ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচন, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কার পর প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা Keir Starmer। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে এখন প্রকাশ্যেই শুরু হয়েছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা। দলের কয়েকজন এমপি সরাসরি তার পদত্যাগ দাবি করেছেন, আবার কেউ কেউ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুরও হুমকি দিয়েছেন।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতে স্টারমার জরুরি ভিত্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Gordon Brown এবং সাবেক উপনেতা Harriet Harman-কে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তেও দলের অনেক এমপি সন্তুষ্ট নন।

লেবার এমপি Catherine West প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছেন, সোমবারের মধ্যে কেউ যদি স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ না দেন, তাহলে তিনি নিজেই দলীয় এমপিদের সমর্থন নিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন। তার দাবি, ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন এমপি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আরও অনেকে অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবারের প্রয়োজন এমন একজন নেতা, যিনি জনগণের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং দলকে নতুন করে সংগঠিত করতে সক্ষম হবেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, স্টারমারকে হয়তো আন্তর্জাতিক কোনো দায়িত্বে সরিয়ে দিয়ে দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ আনা যেতে পারে।

তবে সরকারের ভেতর থেকেই এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা এসেছে। ক্যাবিনেট অফিসমন্ত্রী Nick Thomas-Symonds বলেছেন, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। অভিবাসনমন্ত্রী Mike Tappও ক্যাথরিন ওয়েস্টের মন্তব্যকে “ভয়াবহ দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবি দলটির ভেতরে এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ইংল্যান্ডের কাউন্সিল নির্বাচনে দলটি ১ হাজার ৪৬০টির বেশি আসন হারিয়েছে। উত্তর ইংল্যান্ড ও মিডল্যান্ডসের বহু পুরনো লেবার ঘাঁটিতে বড় সাফল্য পেয়েছে Reform UK। অন্যদিকে Green Party লন্ডনের ওয়ালথাম ফরেস্ট, লুইশাম ও হ্যাকনির মতো এলাকায় লেবারের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়েছে।

ওয়েলসেও ঐতিহাসিক ধাক্কা খেয়েছে লেবার। সেখানে দলটি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। স্কটল্যান্ডেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি দলটি। এসব ফলাফলকে কেন্দ্র করেই এখন স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের ভেতরের অনেকেই।

তবে সংকটের মধ্যেও পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দেননি স্টারমার। তিনি বলেছেন, “আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে চলে যাব না।” আগামী সপ্তাহে বড় ধরনের নীতিগত ঘোষণা এবং নতুন আইন প্রণয়ন কর্মসূচি সামনে আনার পরিকল্পনা করছেন তিনি। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষেও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর লেবারের ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা শুধু স্টারমারের নেতৃত্ব নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তই বৃটিশ রাজনীতিতে নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের সূচনা করতে পারে।