মাত্র দুই হাজার টাকা চুরির অভিযোগে গৃহকর্মী আয়শা মা ও মেয়ে ২ জন খুন করে !
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাত্র দুই হাজার টাকা চুরি সন্দেহকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার (২০) ওই টাকা চুরির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহবধূ লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা ভবনের সপ্তমতলার ফ্ল্যাটে সোমবার সকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা আয়েশাকে বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়ারচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার মাত্র চার দিন আগে গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় যোগ দেন আয়েশা। দুই দিন পর বাসা থেকে দুই হাজার টাকা চুরি করেন তিনি—এমন সন্দেহে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় আয়েশা অভিযোগ অস্বীকার করেন। লায়লা আফরোজ ও তাঁর মেয়ে নাফিসা জানান, গৃহকর্তা আজিজুল ইসলাম বাসায় ফিরলে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হবে। এতে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত আয়েশা পরদিন সকালেই ছুরি লুকিয়ে বাসায় এসে সুযোগ বুঝে লায়লা আফরোজকে একাধিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। মেয়েকে এগিয়ে আসতে দেখে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।
হত্যার পর আয়েশা সাভারের হেমায়েতপুরে পালিয়ে যান এবং চুরি করে নেওয়া মোবাইল ফোনটি নদীতে ফেলে দেন। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে স্বামীকে নিয়ে ঝালকাঠির গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পুলিশের তৎপরতায় সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, “দুই হাজার টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আয়েশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে।”
নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম, যিনি উত্তরার সানবীমস স্কুলের শিক্ষক, ঘটনাদিন সকালে স্কুলে ছিলেন। তিনি ফিরে এসে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখতে পান। পরে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং গৃহকর্মী নিয়োগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আয়েশা জেনেভা ক্যাম্পে থাকার যে তথ্য দিয়েছিলেন, তা মিথ্যা। তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা এবং স্বামী–সন্তান নিয়ে সাভারে থাকতেন।
মা-মেয়েকে খুনের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।