বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে পৃথিবীর পথে পথে ২৭ বছর ধরে হাঁটছেন ব্রিটিশ প্যারাসুটার কার্ল!
বিচিত্র খবর ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ : বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে ২৯ বছর বয়সে একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি। স্বাভাবিক কোনো পর্যটক নয়, বুশবি পায়ে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণে বের হন, ভেবেছিলেন ১২ বছরে শেষ করতে পারবেন এই দুঃসাহসিক যাত্রা। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও বিস্ময়কর—২৭ বছর পরে, ৫৬ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ফিরে এলেন, ‘গলিয়াৎ এক্সপিডিশন’-এর শেষ পর্যায়ে পৌঁছিয়ে।

পানামা ও কলম্বিয়ার ভয়াবহ ডারিয়েন গ্যাপ
১৯৯৮ সালে চিলির পান্তা অ্যারেনাস থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। তিনি দুটি কঠিন নিয়ম মেনে চলেছেন—কোনো মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার করা হয়নি এবং গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত কখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি পাড়ি দিয়েছেন পাতাগোনিয়া ও আন্দিজ পর্বতমালা, মধ্য আমেরিকা, মেক্সিকো, পুরো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশ।
পানামা ও কলম্বিয়ার ভয়াবহ ডারিয়েন গ্যাপ হেঁটে পেরেছেন, বরফ ভেঙে পার হয়েছেন আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী বেরিং প্রণালি। তাছাড়া, কাজাখস্তান থেকে আজারবাইজান পর্যন্ত ৩১ দিন ধরে সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন কাম্পিয়ান সাগর।
যাত্রাপথে তিনি মোকাবিলা করেছেন ভিসার জটিলতা, রাজনৈতিক বাধা, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং এমনকি মহামারিও। শুরু করেছিলেন মাত্র ৫০০ ডলার দিয়ে, প্রাথমিকভাবে ক্ষুধা মেটাতে রাস্তার পাশে থাকা খাবারও খেয়েছেন। পরবর্তীতে ব্যক্তি ও কোম্পানির সহায়তায় তার যাত্রা সহজ হয়েছে।

কার্ল বুশবি মনে করেন, “পৃথিবীটা আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দয়ালু ও সুন্দর।” বর্তমানে তিনি হাঙ্গেরিতে অবস্থান করছেন, যেখানে তার শহর হাল থেকে মাত্র ৯৩২ মাইল দূরে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার বিশ্বভ্রমণ সমাপ্ত হবে।
এই অভিযান শুধু এক মানুষের সাহসের গল্প নয়, বরং এক অনন্য মানসিক ও শারীরিক অধ্যবসায়ের উদাহরণ। বুশবির গল্প আজও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে অগণিত মানুষকে, যারা সীমা পেরিয়ে নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করতে চায়।