নিউইয়র্কে করোনা তহবিল আত্মসাৎ: ৮ বাংলাদেশি ও ১ পাকিস্তানির দোষ স্বীকার

নিউইয়র্কে করোনা তহবিল আত্মসাৎ: ৮ বাংলাদেশি ও ১ পাকিস্তানির দোষ স্বীকার

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে ৯ জন আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং ১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুই বছরে দোষ স্বীকার, জরিমানা ছাড়াল ১০ লাখ ডলার

২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা করেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের পরিচয় প্রকাশ

কর্তৃপক্ষ আসামিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন—
মাহবুব মালিক (৪১), তোফায়েল আহমেদ (৫০), ইউসুফ এমডি (৪৫), মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ (৫৬)।
তবে তাঁদের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

ভুয়া ব্যবসার নামে আবেদন, ব্যক্তিগত হিসাবে টাকা স্থানান্তর

সরকারি তদন্তে উঠে আসে, ২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া ব্যবসার নামে আবেদন করেন।
আবেদনে তাঁরা দাবি করেন, তহবিল কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হবে। কিন্তু অর্থ পাওয়ার পরপরই অধিকাংশ টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ব্যাংক রেকর্ড ও ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল পাওয়ার আগে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমই ছিল না।

কর্তৃপক্ষের কঠোর মন্তব্য

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন,
“মহামারির মতো সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার জন্য বরাদ্দ তহবিল চুরি করা গুরুতর অপরাধ। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।”

ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, দুর্যোগকালীন তহবিল ব্যক্তিগত লাভে ব্যবহার করা জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

তদন্ত শুরু থেকে আত্মসমর্পণ

২০২৪ সালের মে মাসে নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস তদন্ত শুরু করে এবং পরে মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ জানার পর আসামিরা ২০২৫ সালের ৬–৯ মে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন।

জাকির চৌধুরীর দাবি: ‘পার্টনারের কারণে বিপদে পড়েছি’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আসামি জাকির চৌধুরী জানান, আদালত তাঁকে দেড় লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে তিনি ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার খোকন আশরাফ তাঁর অফিসের নাম ব্যবহার করে অনুদান নেন এবং অর্ধেক টাকা নিজের কাছে রাখেন।
জাকির বলেন,
“আমি চাইলে ট্রায়ালে যেতে পারতাম। আমার অফিস, কর্মচারী—সবই আছে। কিন্তু দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও বদনাম এড়াতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করছি।”

খোকন আশরাফের বক্তব্য

মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ বলেন,
“কোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর আমিই প্রথম ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছি। বিষয়টি এখন সমাধান হয়ে গেছে।”