৫৯ হাজার বছর আগেও ছিল দাঁতের চিকিৎসা! নিয়ানডারথালদের দক্ষতায় বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

৫৯ হাজার বছর আগেও ছিল দাঁতের চিকিৎসা! নিয়ানডারথালদের দক্ষতায় বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

তথ্য কণিকা ডেস্ক:

মানুষের দাঁতের ব্যথা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই ব্যথা কমাতে চিকিৎসার ধারণাও যে হাজার হাজার বছর আগে মানুষের পূর্বসূরিদের মধ্যে ছিল— সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণাকেই নতুন করে সামনে আনল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ৫৯ হাজার বছর আগে নিয়ানডারথালরাও দাঁতের চিকিৎসার কৌশল জানত।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া দাঁতের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। চাগিরস্কায়া গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েক ডজন দাঁতের মধ্যে একটি মোলার দাঁত বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। কারণ দাঁতটিতে ছিল অস্বাভাবিক গভীর একটি গর্ত, যা দেখতে অনেকটা আধুনিক ক্যাভিটির মতো।

গবেষকেরা দাঁতটির নাম দিয়েছেন “চাগিরস্কায়া ৬৪”। পরীক্ষায় দেখা যায়, গর্তটি শুধু স্বাভাবিক ক্ষয়ের ফল নয়; বরং বাইরে থেকে কোনও সূচালো বস্তু দিয়ে সেখানে কাজ করা হয়েছিল। দাঁতের চারপাশে পাওয়া আঁচড়ের দাগ থেকেই সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের গবেষক অ্যালিসা জুবোভার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়ানডারথালরা সম্ভবত দাঁতের সংক্রমণ ও ব্যথার উৎস বুঝতে পারত। শুধু তাই নয়, ব্যথা কমানোর জন্য দাঁতে “ড্রিল” করার মতো প্রাথমিক চিকিৎসাও তারা প্রয়োগ করত।

গুহাটিতে প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে কিছু ধারালো পাথরের টুকরোও পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, সেই পাথর দিয়েই দাঁতের ক্ষতস্থানে কাজ করা হত। আধুনিক যন্ত্রে স্ক্যান করে দাঁতটির গঠন বিশ্লেষণ করার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, দাঁতের গর্তটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী PLOS ONE-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মানব ইতিহাসে এটিই সম্ভবত দাঁতের চিকিৎসার সবচেয়ে পুরনো প্রমাণ।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, সেই সময় পৃথিবীতে আধুনিক মানুষ বা হোমো সেপিয়েন্সের আবির্ভাব ঘটলেও দাঁতের চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নিয়ানডারথালদের এই সক্ষমতা প্রমাণ করে, তারা কেবল শক্তিশালী শিকারিই ছিল না; বরং শরীরের জটিল সমস্যা বুঝে সমাধানের চেষ্টাও করত।

অ্যালিসা জুবোভার ভাষায়, “যার দাঁত এটি ছিল, সে বুঝতে পেরেছিল কোথা থেকে ব্যথা হচ্ছে এবং সেই ব্যথা কমানোর উপায়ও খুঁজেছিল। নিয়ানডারথালদের ক্ষেত্রে এমন প্রমাণ আগে কখনও পাওয়া যায়নি।”

এই আবিষ্কার মানব সভ্যতার প্রাচীন চিকিৎসা-জ্ঞান সম্পর্কে নতুন প্রশ্নও তুলছে। হয়তো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূচনা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক আগে হয়েছিল।