টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিনে ৪৪ নতুন বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা

টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিনে ৪৪ নতুন বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা

কমিউনিটি ডেস্ক: 

লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায় একটি পুরোনো ভিক্টোরিয়ান স্কুল ভবনকে কেন্দ্র করে নতুন আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা আবেদন জমা দিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এটি কাউন্সিলের মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম (এমএএইচপি)-এর অধীনে জমা দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা আবেদন, যা টাওয়ার হ্যামলেটসে দ্রুতগতিতে প্রকৃত সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের উদ্যোগকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় নির্বাচনের আগেই আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কাউন্সিলের এই আবাসন কর্মসূচি শুধু পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকেও দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ৭ মে নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, এই প্রথম পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, কাউন্সিলের নিজস্ব জমিতে দ্রুত সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল এবং বেথনাল গ্রিনের প্রকল্পটি নতুন বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধাকে একসঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

প্রকল্পটি তৈরি করেছে Matthew Lloyd Architects, সহযোগিতায় রয়েছে Mace Consult এবং Sphere 25। এটি এমএএইচপি কর্মসূচির প্রথম প্রকল্প, যা এখন পরিকল্পনা অনুমোদনের ধাপে পৌঁছেছে। পুরো কর্মসূচির আওতায় টাওয়ার হ্যামলেটসজুড়ে কাউন্সিলের মালিকানাধীন অন্তত ৩৭টি স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসন সংকটে থাকা পূর্ব লন্ডনের এই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে চাপ কমাতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বেথনাল গ্রিন প্রকল্পে মোট ৪৪টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি থাকবে সাশ্রয়ী ভাড়ার আওতায়। পরিবারভিত্তিক বড় ফ্ল্যাট এবং প্রতিবন্ধী-বান্ধব সহজপ্রবেশযোগ্য বাসস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য না হন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি দুটি ভবনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। পুরোনো ভিক্টোরিয়ান স্কুল ভবন সংরক্ষণ করে সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেখানে ২০টি আবাসন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নতুন একটি পাঁচতলা ভবনে নির্মিত হবে আরও ২৪টি সোশ্যাল রেন্ট বাসা। একই সঙ্গে সেখানে এক হাজার বর্গমিটারের বেশি কমিউনিটি স্পেসও থাকবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে নতুন আইডিয়া স্টোর ও রেসিডেন্টস’ হাব। স্থানীয় মানুষের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কাউন্সিল সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এখানে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হবে। এছাড়া একটি “ওয়ান স্টপ শপ” চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে বাসিন্দারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।

নকশাগতভাবে প্রকল্পটিতে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আধুনিক স্থাপত্যের সমন্বয় রাখা হয়েছে। আলো-বাতাস ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে কোর্টইয়ার্ডভিত্তিক বিন্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনের উচ্চতা ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আবাসন বাড়লেও এলাকার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকে।

পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনের মাধ্যমে সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এলাকাটিকে আরও বাসযোগ্য কমিউনিটিতে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কাউন্সিলের আশা, বেথনাল গ্রিনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমএএইচপি কর্মসূচির অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের পথও সুগম করবে।