ফেসবুকের ‘হা হা’র রাজনীতি: এক ক্লিক, এক লাশ, এক অস্থির সমাজের চিত্র

ফেসবুকের ‘হা হা’র রাজনীতি: এক ক্লিক, এক লাশ, এক অস্থির সমাজের চিত্র

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ১৭ মে: 

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ায় এক অদ্ভুত সামাজিক বাস্তবতা দেখা গেল—যেখানে একটি ফেসবুক পোস্টের নিচে দেওয়া ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট আর একটি জীবনের মাঝখানে আর কোনো পার্থক্য রইল না। ডিজিটাল যুগের যে হাসির ইমোজি একসময় নিছক ব্যঙ্গ ছিল, সেটাই এবার বাস্তব জীবনে পরিণত হলো রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে—রাজনীতি, ট্যাগিং আর দেয়াললিখনের পুরনো উত্তাপ সেখানে নতুন করে আগুন ধরায়। এরপর সেই পোস্টের নিচে একটি ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট—যেন আধুনিক গণতন্ত্রের সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ। তারপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাখ্যা, উত্তেজনা, দলীয় উত্তাপ, আর শেষ পর্যন্ত উত্তম-মধ্যমের সামাজিক বিচারসভা।

এর মাঝখানে ছিলেন একজন মা। যিনি ফেসবুকের কোনো অ্যাকাউন্ট নন, কোনো পোস্টও নন, কোনো রিঅ্যাক্টও নন। তিনি শুধু একজন সন্তানকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাস্তব পৃথিবীতে ‘হা হা’ আর ‘হা হা’র ব্যাখ্যা এক পর্যায়ে এমনভাবে জড়িয়ে গেল যে, শেষ হাসিটা থেমে গেল এক মায়ের নিথর শরীরে।

স্থানীয় ভাষ্য আর প্রশাসনিক ব্যাখ্যার মধ্যে আবার সেই পুরনো পার্থক্য—কে প্রথম শুরু করল, কে কার বন্ধু ছিল, কে কার পোস্টে কী রিঅ্যাক্ট দিল, আর কে কার মাকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে পাঠাল।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্বীকারও প্রস্তুত ছিল আগেই। কেউ বলছে “আমরা ছিলাম না”, কেউ বলছে “এটা রাজনৈতিক নয়”, কেউ আবার বলছে “ফেসবুকই সব সমস্যার মূল”। যেন মানুষ নয়, অ্যালগরিদমই এখন মারামারি করছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি আসলে খুব ছোট—একটি ‘হা হা’।

ডিজিটাল পৃথিবীতে যেটা হাসি, বাস্তব পৃথিবীতে সেটাই হয়ে উঠল উত্তেজনার ট্রিগার। আর সেই ট্রিগার টানার পর যে গুলিটা ছুটে গেল, তার লক্ষ্য ছিল না কোনো পোস্ট, কোনো দল, বা কোনো রিঅ্যাক্ট—তার লক্ষ্য হয়ে গেল একটি পরিবার, একটি মা, একটি জীবন।

পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে, স্থানীয়রা বলছে ঘটনা জটিল, আর সমাজ হয়তো আবার বলবে—এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যায় খুব সাধারণভাবে—

একটা ‘হা হা’ কতটা ভারী হলে একজন মা আর কখনো বাসায় ফিরে যায় না?