যুক্তরাজ্যে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা বিল ঘোষণা
ফেসবুকে সহিংস ভিডিও শেয়ার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড
লন্ডন, ১৭ মে:
যুক্তরাজ্যে অনলাইনে চরম সহিংসতার ভিডিও শেয়ার করা বা প্রচার করা এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন জাতীয় নিরাপত্তা বিল অনুযায়ী, বিশেষ করে মানুষ ও প্রাণীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও নৃশংস সহিংসতার চিত্র বা ফুটেজ তৈরি ও ছড়িয়ে দিলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বুধবার রাজকীয় ভাষণে ঘোষিত এই বিলকে সরকার “আইনগত ফাঁক পূরণকারী পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। নতুন আইনে এমন একটি আলাদা অপরাধও সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে একাকী হামলাকারী কিংবা অ-সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমতুল্য কঠোরতার আওতায় আনা হচ্ছে।
এই নতুন বিধানের অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগাম হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে আদর্শগত উদ্দেশ্য ছাড়াই নৃশংস হামলার পরিকল্পনার সন্দেহ থাকবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের পেছনে অন্যতম বড় উদাহরণ হলো ২০২৪ সালের জুলাই মাসে Southport হামলা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত অ্যাক্সেল রুডাকুবানার অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত গণহত্যা ও স্কুল শুটিং সংক্রান্ত ভিডিও দেখতেন এবং চরম সহিংসতার প্রতি এক ধরনের আসক্তি গড়ে তুলেছিলেন।
নতুন আইনের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে—বিশেষ করে Meta Platforms (ফেসবুকসহ)—তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের চরম সহিংস কনটেন্ট দ্রুত অপসারণে আরও কঠোর দায়িত্বের আওতায় আনা হবে।
সরকার বলছে, এই আইন শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার বিস্তার রোধে একটি প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলা ও উগ্র আচরণ আগেভাগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়ক হবে।