লন্ডন সংবাদ
লন্ডনের চার এলাকায় বাড়ির দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি, বেড়েছে ভাড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০ সেপ্টেম্বর:
লন্ডনের আবাসন বাজারে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বাড়ির দাম এক বছরে ১০ শতাংশের বেশি কমেছে, অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া বেড়েই চলেছে। ফলে বাড়ি কেনার বাজার কিছুটা দুর্বল হলেও ভাড়াটিয়াদের ওপর ব্যয়ের চাপ কমেনি।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে লন্ডনের ২০টি এলাকায় গড় বাড়ির দাম কমেছে। এর মধ্যে চারটি এলাকায় পতন ১০ শতাংশের বেশি।
সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ওয়েস্টমিনস্টারে। সেখানে বাড়ির গড় দাম এক বছরে ২০.৭ শতাংশ কমে প্রায় ১১ লাখ ৬ হাজার পাউন্ড থেকে ৮ লাখ ৭৭ হাজার পাউন্ডে নেমেছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে—যেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করে—গড় বাড়ির দাম ১৪.৪ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গড় দাম ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার পাউন্ড; এক বছর পর তা নেমে হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার পাউন্ড।
কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে দাম কমেছে ১৪.১ শতাংশ। গড় দাম প্রায় ১৪ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড থেকে নেমে হয়েছে ১২ লাখ ৩৩ হাজার পাউন্ড।
আর ক্যামডেনে এক বছরে গড় বাড়ির দাম কমেছে ১০.১ শতাংশ। সেখানে গড় দাম প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার পাউন্ড থেকে নেমে ৮ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড হয়েছে।
লন্ডনের সামগ্রিক চিত্রও দুর্বল। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে রাজধানীতে বাড়ির গড় দাম ৩.৩ শতাংশ কমেছে। ওএনএসের হিসাবে লন্ডনে গড় বাড়ির দাম ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।
কিন্তু বাড়ির দাম কমলেও ভাড়াটিয়াদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। ওএনএসের সর্বশেষ আগস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে গড় বেসরকারি মাসিক ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৩২ পাউন্ড। এক বছর আগে তা ছিল ২ হাজার ২৫৩ পাউন্ড—অর্থাৎ এক বছরে ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
লন্ডনের কয়েকটি এলাকায় ভাড়া আরও দ্রুত বেড়েছে। আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ইস্লিংটনে ভাড়া বেড়েছে ৬.২ শতাংশ, গ্রিনউইচে ৬.১ শতাংশ এবং সাউথওয়ার্ক ও মার্টনে ৫.৪ শতাংশ করে। এনফিল্ডেও ভাড়া বেড়েছে ৫.১ শতাংশ।
অর্থাৎ বাড়ির দাম কমার সুবিধা মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য, কিন্তু যারা ভাড়া বাসায় থাকেন তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। বাড়ির মালিকানার বাজারে দাম কমলেও ভাড়ার বাজারে খরচ বাড়ছে।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। টাওয়ার হ্যামলেটসে বাড়ির গড় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ভাড়াটিয়াদের জন্য বাড়ি ভাড়া কমার কোনো সমান্তরাল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ি কেনার সামর্থ্য না থাকা পরিবারগুলোকে উচ্চ ভাড়ার চাপই বহন করতে হচ্ছে।
তবে বাড়ির দামের এই পতনকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ওএনএসের বাড়ির দামের পরিসংখ্যানের সর্বশেষ সময়কাল জুলাই ২০২৬ এবং এগুলো প্রাথমিক হিসাব—পরবর্তী সময়ে সংশোধন হতে পারে। ভাড়ার পরিসংখ্যানও সর্বশেষ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোর হিসাব সংশোধিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে লন্ডনের আবাসন বাজারে এখন একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—বাড়ি কেনার দাম কমছে, কিন্তু ভাড়া বাড়ছে। ফলে সম্পত্তির মালিক হতে চাওয়া মানুষের জন্য বাজার কিছুটা নরম হলেও, ভাড়াটিয়াদের মাসিক সংসার খরচের চাপ এখনো কমেনি।