ব্রিটেনে জুলাই থেকে বিল প্রায় ২০৯ পাউন্ড বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডে
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২০ মে :
ব্রিটেনে আবারও বাড়তে যাচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে একটি গড় পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি বিল প্রায় ২০৯ পাউন্ড বেড়ে ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। এতে চলমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটে থাকা লাখো পরিবার নতুন করে চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইট জানিয়েছে, অফজেমের নতুন প্রাইস ক্যাপ প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কার্যকর মূল্যসীমা রয়েছে ১ হাজার ৬৪১ পাউন্ড। জুলাই থেকে নতুন সীমা কার্যকর হলে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক গ্যাসবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার পর গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং বিশ্ববাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তার প্রভাব এখন সরাসরি এসে পড়ছে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের ঘরে।
কর্নওয়াল ইনসাইট বলছে, যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বরং আগামী শীতেও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরামর্শক ক্রেইগ লাওরি বলেছেন, যদি জুলাইয়ের পরও বিল একই পর্যায়ে থাকে, তাহলে সরকারকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনা নিতে হবে। তার ভাষায়, “হাজার মাইল দূরের সংঘাতের মূল্য এখন ব্রিটিশ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে।”
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণেই ব্রিটেন বারবার এমন সংকটে পড়ছে। তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কম পড়ে।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে আসছে, যখন ব্রিটেনের মানুষ আগে থেকেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্যপণ্য, কাউন্সিল ট্যাক্স, পানির বিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব খাতেই খরচ বেড়েছে। ফলে জ্বালানি বিলের এই নতুন ধাক্কা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ অবস্থায় বিভিন্ন জ্বালানি তুলনামূলক ওয়েবসাইট গ্রাহকদের নির্দিষ্ট রেটের চুক্তিতে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। কারণ বর্তমানে বাজারে কিছু ফিক্সড ট্যারিফ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মূল্যসীমার চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চ্যান্সেলর Rachel Reeves চলতি সপ্তাহেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নতুন কিছু সহায়তা বা কর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন।