ভূমি সেবায় ডিজিটাল বিপ্লবের ঘোষণা, কমবে হয়রানি ও মামলার জট: প্রধানমন্ত্রী

ভূমি সেবায় ডিজিটাল বিপ্লবের ঘোষণা, কমবে হয়রানি ও মামলার জট: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি, ২০ মে: দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি জরিপ ও ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির কাজ চলছে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই অধিকাংশ ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা, হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার প্রায় সব ধরনের ভূমিসেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। এর ফলে নামজারি, খাজনা পরিশোধ, খতিয়ান সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধনসহ নানা কাজ এখন অনলাইনে করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, “মানুষকে আর জমির কাগজপত্র নিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হবে না। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর ফলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ৬১ জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। যেসব মানুষ অনলাইনে নিজেরা আবেদন বা কর পরিশোধ করতে পারেন না, তারা এসব কেন্দ্র থেকে সহায়তা নিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে জমির মালিকানায় জটিলতা বেড়েছে। একসময় একটি জমির মালিক ছিলেন একজন, এখন একই জমিতে বহু শরিক তৈরি হয়েছে। ফলে জমির রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বড় একটি অংশ জমিজমা সংক্রান্ত। সঠিক ও স্বচ্ছ ভূমি রেকর্ড গড়ে তোলা গেলে মামলার সংখ্যা অনেক কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে একই দিনে সচিবালয়ে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লেকের পানিদূষণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর জলাধার ও পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।