প্রথম দিনেই বড় রদবদল মন্ত্রিসভায়
নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ‘নতুন ব্রিটেন’ ঘোষণা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, লন্ডন, ২১ জুলাই:
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানানোর পর তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বার্নহ্যাম ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছে নতুন যুগের সূচনার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে অতিরিক্ত প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। তিনি বলেন, "মানুষ রাজনীতিতে ক্লান্ত। আমরা যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি। এখন আরও ভালো করার সময় এসেছে।"
তিনি তাঁর সরকারকে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি "সার্কিট ব্রেকার" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের জন্য অপরিহার্য সেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণায় বার্নহ্যাম জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম সরকারি নির্দেশ হবে যুক্তরাজ্যে রাফ স্লিপিং বা খোলা আকাশের নিচে মানুষের রাত কাটানোর অবসান ঘটানো। একই সঙ্গে তিনি আরও কাউন্সিল হাউস নির্মাণ, তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা সংস্কার এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের জন্য একটি ১০ বছরের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে, যেখানে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আবাসন, জনসেবা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের রূপরেখা থাকবে। জ্বালানি বিল ও বাসভাড়া কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
প্রথম দিনেই বড় রদবদল
ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বার্নহ্যাম তাঁর নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা শুরু করেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি নতুন অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলে কর্মজীবী মানুষের জন্য নতুন আশা তৈরি করবে।
সাবেক জ্বালানি ও জলবায়ুবিষয়ক রাজনীতিক এড মিলিব্যান্ড নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা, ন্যাটো ও জাতিসংঘের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এদিকে ইভেট কুপার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। শাবানা মাহমুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বহাল থাকছেন এবং অভিবাসন সংস্কার ও জননিরাপত্তা জোরদারের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। লুইস হেই ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট ও ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে কর্ম ও পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন তাঁর পদে বহাল রয়েছেন।
বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভায় কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বাদ পড়েছেন। তবে দলীয় বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দিয়ে তিনি একটি তুলনামূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের প্রথম দিনের ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট যে তাঁর সরকার জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, আবাসন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চায়। এখন নজর থাকবে, আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্যাকেজ ও ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত এবং তা বাস্তবায়নে সরকার কতটা সফল হয়।