বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভা: বড় রদবদল, ১১ মন্ত্রী বিদায়; নতুন মুখে সাজল ব্রিটিশ সরকার

বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভা: বড় রদবদল, ১১ মন্ত্রী বিদায়; নতুন মুখে সাজল ব্রিটিশ সরকার

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২১ জুলাই:

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে তিনি দেশকে নতুনভাবে গড়ার অঙ্গীকার করে বলেন, তাঁর সরকার হবে ব্রিটেনের জন্য একটি "সার্কিট ব্রেকার", যা গত চার দশকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।

তিনি মঙ্গলবার থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে জরুরি পদক্ষেপ ঘোষণা, চলতি বছরের মধ্যেই একটি ১০ বছরের জাতীয় পরিকল্পনা প্রকাশ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম নির্দেশে রাফ স্লিপিং (রাস্তায় রাত কাটানো) বন্ধে কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন।

এর পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল এনে তিনি স্টারমারপন্থী অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন ও অভিজ্ঞ মুখের সমন্বয়ে দল গঠন করেছেন।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা হলেন:

 জন হিলি (John Healey) — অর্থমন্ত্রী (Chancellor)

এড মিলিব্যান্ড (Ed Miliband) — পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Foreign Secretary)

ইভেট কুপার (Yvette Cooper) — স্বাস্থ্যমন্ত্রী (Health Secretary)

অ্যাঞ্জেলা রেইনার (Angela Rayner) — আবাসনমন্ত্রী (Housing Secretary)

 লুইস হেইগ (Louise Haigh) — ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট, চ্যান্সেলর অব দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এবং ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী

 স্টিফেন কিনক (Stephen Kinnock) — ওয়েলস বিষয়ক মন্ত্রী

 স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট (Sir Chris Bryant) — নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী

 এলি রিভস (Ellie Reeves) — অ্যাটর্নি জেনারেল

 এমা রেনল্ডস (Emma Reynolds) — চিফ সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি

 কানিশকা নারায়ণ (Kanishka Narayan) — ক্যাবিনেট অফিস ও ডিজিটাল, সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া বিভাগের স্টেট মিনিস্টার

 হামিশ ফ্যালকনার (Hamish Falconer) — ক্যাবিনেট অফিস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের স্টেট মিনিস্টার

যাঁরা আগের পদেই বহাল থাকলেন:

 শাবানা মাহমুদ (Shabana Mahmood) — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 প্যাট ম্যাকফ্যাডেন (Pat McFadden) — কর্মসংস্থান ও পেনশনমন্ত্রী

 হেইডি আলেকজান্ডার (Heidi Alexander) — পরিবহনমন্ত্রী

 ডগলাস আলেকজান্ডার (Douglas Alexander) — স্কটল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী

 স্যার অ্যালান ক্যাম্পবেল (Sir Alan Campbell) — হাউস অব কমন্সের নেতা

 ব্যারোনেস স্মিথ অব ব্যাসিলডন (Baroness Smith of Basildon) — হাউস অব লর্ডসের নেতা

 ম্যাথিউ পেনিকুক (Matthew Pennycook) — আবাসন, কমিউনিটিজ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (ক্যাবিনেটে উপস্থিত থাকবেন)

যেসব প্রভাবশালী মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে :

বার্নহাম তাঁর প্রথম দিনেই স্টারমার সরকারের ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন।

 র‍্যাচেল রিভস (Rachel Reeves) — অর্থমন্ত্রী

 ডেভিড ল্যামি (David Lammy) — উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী

স্টিভ রিড (Steve Reed) — পরিবেশ ও আবাসনমন্ত্রী

পিটার কাইল (Peter Kyle) — ব্যবসামন্ত্রী

লিজ কেন্ডাল (Liz Kendall) — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

 লর্ড হারমার (Lord Hermer) — অ্যাটর্নি জেনারেল

 জো স্টিভেন্স (Jo Stevens) — ওয়েলস বিষয়ক মন্ত্রী

 ড্যারেন জোন্স (Darren Jones) — চিফ সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি

 হিলারি বেন (Hilary Benn) — নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী

জেমস মারে (James Murray) — স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান অব ডার্লিংটন (Baroness Jenny Chapman of Darlington) — পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী

 নিক থমাস-সাইমন্ডস (Nick Thomas-Symonds) — ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী ও পেমাস্টার জেনারেল

বার্নহামের প্রথম অগ্রাধিকার

নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন—

  • আগামীকাল থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • বিদ্যুৎ বিল ও বাসভাড়া কমানোর পরিকল্পনা আনা হবে।
  • নতুন কাউন্সিল হাউস নির্মাণ করা হবে।
  • তরুণদের কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
  • কল্যাণব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক করা হবে।
  • রাফ স্লিপিং নির্মূলে জাতীয় কর্মসূচি শুরু হবে।
  • চলতি বছরের মধ্যেই ব্রিটেনের জন্য একটি ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বার্নহামের এই ব্যাপক রদবদল শুধু মন্ত্রিসভার পরিবর্তন নয়; বরং এটি লেবার পার্টির নেতৃত্ব, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং সরকারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।