ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ লাখে, নতুন বাস্তবতা নিয়ে ইস্ট লন্ডন মসজিদের গবেষণা প্রতিবেদন

ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ লাখে, নতুন বাস্তবতা নিয়ে ইস্ট লন্ডন মসজিদের গবেষণা প্রতিবেদন

কমিউনিটি ডেস্ক, ২১ জুলাই:

ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে কমিউনিটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ আলোচনা সভা। ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে এবং মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে মুসলমানের সংখ্যা ২৮ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে।

লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের গবেষক ড. জামিল শরীফ ও ফাতেমা সুন্দারজি। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় বলা হয়, সংখ্যাগত বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষায়ও মুসলিমদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০০১ সালে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী খাতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ড. জামিল শরীফ বলেন, মুসলিমদের সম্পর্কে প্রচলিত অনেক নেতিবাচক ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম এবং ৯১ শতাংশ মুসলমান ইংরেজি ভাষায় ভালো বা খুব ভালোভাবে কথা বলতে সক্ষম।

আলোচনায় পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে গত দুই দশকে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় আবাসন সংকট এখন অন্যতম বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মুসলিম পরিবারগুলোর বড় অংশ বিবাহিত দম্পতি ও নির্ভরশীল সন্তান নিয়ে গঠিত, যা অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান একাকী বসবাস করছেন, যা মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সামাজিক দায়িত্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে মুসলিম তরুণ-তরুণীদের শিক্ষাগত অর্জন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম নারীরা উচ্চশিক্ষায় পুরুষদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীর হার দেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়।

তবে প্রবীণ মুসলিমদের স্বাস্থ্য ও ভাষাগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। গবেষণায় দেখা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটসের ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বহু মুসলিম, বিশেষ করে নারীরা, দুর্বল স্বাস্থ্য ও ইংরেজি ভাষাজ্ঞানের অভাবে নানা ধরনের সেবাপ্রাপ্তিতে পিছিয়ে রয়েছেন।

আলোচনার সমাপনী পর্বে বক্তারা বলেন, মুসলিম জনসংখ্যার এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্রিটিশ মুসলিমদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।