ব্রিটেন সংবাদ
ব্রিটেনে এক মিলিয়নের বেশি তরুণ কর্মহীন, সামনে এআইয়ের নতুন চাপ
লন্ডন, ২১ সেপ্টেম্বর : ব্রিটেনের তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ-তরুণী চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। বছরের শুরুতে এই সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ছাড়িয়েছিল।

তবে ‘কর্মহীন’ বলতে এখানে সবাই বেকার—এমন নয়। সরকারি হিসাবে এনইইটি শ্রেণির মধ্যে বেকার এবং কর্মবাজারের বাইরে থাকা—দুই ধরনের তরুণই রয়েছেন। একই সময়ে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৬–২৪ বছর বয়সী ৭ লাখ ৫১ হাজার তরুণ বেকার ছিলেন, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার বেশি। তরুণদের বেকারত্বের হারও বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে এক বছর আগে ছিল ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
চাকরির বাজারে প্রবেশের সময়টিই এখন অনেক তরুণের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, স্কুল শেষ করা তরুণ এবং অভিজ্ঞতাহীন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রবেশপর্যায়ের চাকরির সংখ্যা ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের জন্য উপযুক্ত চাকরির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তি এখন শুধু ভবিষ্যতের বিষয় নয়—নিয়োগের ধরন, কাজের পদ্ধতি এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপর ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এআইয়ের প্রভাব ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের পেশায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ করে প্রশাসনিক কাজ, কিছু প্রবেশপর্যায়ের চাকরি এবং অফিসভিত্তিক কাজ এআইয়ের কারণে পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এআই যে সরাসরি লাখ লাখ চাকরি নিশ্চিতভাবে কেড়ে নেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। বরং গবেষণা ও বিশ্লেষণে কাজের ধরন বদলে যাওয়া, কিছু কাজের চাহিদা কমা এবং নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হওয়ার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকারও এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এআই ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনায় ৪ লাখ তরুণকে এআই ও প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ইংল্যান্ডে এআই প্রশিক্ষণ শিবির চালুর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ ব্রিটেনের তরুণদের সামনে এখন একই সঙ্গে দুটি বাস্তবতা—চাকরির বাজারে প্রবেশের কঠিন প্রতিযোগিতা এবং দ্রুত পরিবর্তিত প্রযুক্তি। আগামী দিনের কর্মজীবনে শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট হবে কি না, সেই প্রশ্নও তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তরুণদের জন্য প্রয়োজন হবে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পাশাপাশি এমন দক্ষতা অর্জন, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।