তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই—অন্ধকারে বাংলাদেশ: গভীর রাতে রান্না করছেন মানুষ

গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই—অন্ধকারে বাংলাদেশ: গভীর রাতে রান্না করছেন মানুষ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ সেপ্টেম্বর : জ্বালানি সংকট ক্রমেই বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় রাজধানীর অনেক পরিবারকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এমনই চিত্র উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক মাঠ-প্রতিবেদনে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে দেশের কোনো কোনো গ্রামীণ এলাকায় দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। সংকটের সবচেয়ে তীব্র সময়ে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় বলে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১০৭ থেকে ১১৩ মিলিয়ন ঘনমিটার। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ঘনমিটার। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এই ঘাটতির প্রভাব শুধু বাসাবাড়ির রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও সমস্যায় পড়ছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও তৈরি হচ্ছে চাপ। অর্থাৎ জ্বালানি সংকট একসঙ্গে মানুষের ঘর, শিল্প ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও সতর্কতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে আরও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

একদিকে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, অন্যদিকে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই চাপেই সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে। গ্যাসের জন্য রাত জাগা থেকে শুরু করে বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকা—জ্বালানি সংকট এখন আর কেবল অর্থনীতি বা অবকাঠামোর সমস্যা নয়; এটি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকটে পরিণত হয়েছে।