২৫ এপ্রিল: বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

২৫ এপ্রিল: বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

ভয়েস অব পিপল, তথ্য কণিকা ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল: 

।। প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই, অগ্রগতি চ্যালেঞ্জের বার্তা ।।

২৫ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস—একটি দিন যা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ, চিকিৎসা, গবেষণা এবং রোগ নির্মূলে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে সামনে আনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০০৭ সালে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, যা পূর্বে আফ্রিকা ম্যালেরিয়া দিবস নামে পরিচিত ছিল। এই দিবসের লক্ষ্য—ম্যালেরিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং রোগ নির্মূলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

ম্যালেরিয়া: একটি প্রাচীন কিন্তু এখনও ভয়াবহ রোগ

ম্যালেরিয়া হলো প্লাজমোডিয়াম পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ, যা সংক্রমিত Anopheles মশার কামড়ে ছড়ায়। রোগের প্রধান উপসর্গ • উচ্চ জ্বর • কাঁপুনি • মাথাব্যথা • বমি • দুর্বলতা

চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক WHO রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ম্যালেরিয়া রোগী এবং ৬১০,০০০ মৃত্যু ঘটেছে—যার বেশিরভাগই সাব–সাহারান আফ্রিকায়। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত • ২.৩ বিলিয়ন ম্যালেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করা গেছে • ১৪ মিলিয়ন মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়েছে

এটি প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা সফল হলেও অগ্রগতি এখনও ঝুঁকির মুখে।

দিবসটির ইতিহাস

  • ২০০1: আফ্রিকা ম্যালেরিয়া দিবস হিসেবে শুরু • ২০০৭: WHO–র ৬০তম বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদে নাম পরিবর্তন করে World Malaria Day করা হয় • ২০০৮: প্রথমবার বৈশ্বিকভাবে পালন শুরু

উদ্দেশ্য ছিল—ম্যালেরিয়া শুধু আফ্রিকার সমস্যা নয়, বরং বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে বিদ্যমান একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট।

২০২5–২৬ সালের থিম

WHO–র সাম্প্রতিক প্রচারণা Driven to End Malaria: Now We Can. Now We Must. এই বার্তা জানায়—নতুন ভ্যাকসিন, উন্নত মশারি, জেনেটিক প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে এখন ম্যালেরিয়া নির্মূল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভব।

অগ্রগতি

  • ৪৭টি দেশ ইতোমধ্যে ম্যালেরিয়া–মুক্ত হিসেবে সার্টিফায়েড • ২৫টি দেশে শিশুদের জন্য ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু • নতুন প্রজন্মের মশারি ৮৪% বিতরণে ব্যবহৃত

চ্যালেঞ্জ

  • ওষুধ প্রতিরোধী পরজীবী • কীটনাশক প্রতিরোধী মশা • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার বিস্তার • দরিদ্র ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার অভাব

প্রতিরোধ

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদ্ধতি • কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার • ঘরের ভেতরে কীটনাশক স্প্রে • দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা • পরিবেশ পরিষ্কার রাখা • ভ্যাকসিন গ্রহণ (যেখানে উপলব্ধ)

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য, কিন্তু এখনও প্রাণঘাতী। ঠিক হাম চিকিৎসাযোগ্য রোগ, কিন্তু প্রাণঘাতি। ইদানিং বাংলাদেশে যেভাবে শিশুরা হামে মারা যাচ্ছে টিকা না দেবার জন্য। বৈশ্বিক সহযোগিতা, গবেষণা, ভ্যাকসিন, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন—এই পাঁচটি স্তম্ভই ম্যালেরিয়া–মুক্ত ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারে।