ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
৫০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর খোঁজ নেই ব্রিটেনে, উদ্বেগে স্বরাষ্ট্র দপ্তর
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৫ জুন:
যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে অন্তর্ধান করেছে ৫০ হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধী। সরকারি নথিপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই সংখ্যা বর্তমানে সরকারের আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অনেক ফাইলের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ রেকর্ড অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন বিদেশি অপরাধীও রয়েছে। এদের অনেকেই আদালতের আদেশ, বহিষ্কার প্রক্রিয়া অথবা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত রিপোর্টিং শর্ত অমান্য করে গা-ঢাকা দিয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, "অ্যাবসকন্ডার" বা পলাতক অভিবাসী বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং যাদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে না। ফলে তারা কোথায় আছে, কী করছে কিংবা আদৌ দেশ ত্যাগ করেছে কি না—সেসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধভাবে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি, অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপও বেড়েছে। এর ফলে বহু ব্যক্তির ওপর কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নিখোঁজদের বড় অংশ হয়তো অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে কাজ করছে অথবা ভুয়া পরিচয়ে বসবাস করছে। এ অবস্থায় কর ফাঁকি, শ্রমিক শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের অভিবাসন নীতিকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে হাজার হাজার ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক তথ্যভাণ্ডার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বিশেষ অভিযানও চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তির অবস্থান অজানা থাকা শুধু অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা পরিকল্পনা এবং আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যখন ওই তালিকায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি অপরাধীরাও রয়েছে, তখন বিষয়টি সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়াবে।
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন প্রশ্নটি আগামী দিনগুলোতেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আশ্রয়নীতি এবং অবৈধ অভিবাসন—এই তিনটি বিষয় এখন দেশটির অন্যতম স্পর্শকাতর নীতিগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।