ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ওজন কমানোর ইনজেকশনে ২০০-র বেশি মৃত্যুর তথ্য, বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ওজন কমানোর ইনজেকশনে ২০০-র বেশি মৃত্যুর তথ্য, বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

লন্ডন, ৯ আগস্ট: দ্রুত ওজন কমানোর জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা Medicines and Healthcare products Regulatory Agency (MHRA)-এর কাছে এসব ওষুধ ব্যবহারের পর ২০০-র বেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর সঙ্গে ওষুধগুলোর সরাসরি কারণগত সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত মাউনজারো (tirzepatide), ওয়েগোভি (semaglutide) এবং স্যাক্সেন্ডা (liraglutide)-এর মতো ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের পর বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। MHRA-এর Yellow Card ব্যবস্থায় চিকিৎসক, রোগী, স্বজনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এসব ঘটনা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি ওষুধ মিলিয়ে ২১৬টি মৃত্যুর ঘটনা এমনভাবে রিপোর্ট হয়েছে, যেখানে ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের সন্দেহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাউনজারোর ক্ষেত্রে মৃত্যুর রিপোর্ট সবচেয়ে বেশি। ওয়েগোভি ও স্যাক্সেন্ডার ক্ষেত্রেও মৃত্যুর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য জমা পড়েছে।

তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—Yellow Card-এ কোনো ঘটনা রিপোর্ট হওয়া মানেই ওই ওষুধের কারণে তা ঘটেছে, এমন প্রমাণ নয়। একজন রোগীর অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা, বয়স, পূর্ববর্তী রোগ কিংবা অন্যান্য ওষুধও মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রিপোর্ট করা ঘটনাগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা-সংকেত হিসেবে দেখা হয়, চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নয়।

এই শ্রেণির ওষুধ সাধারণত ক্ষুধা কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন কমাতে সহায়তা করে। স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় এগুলোর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্টও বেশি চোখে পড়ছে।

MHRA ইতোমধ্যে এসব ওষুধের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এর আগে ওষুধগুলোর সঙ্গে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা pancreatitis-এর মতো গুরুতর জটিলতার শত শত সম্ভাব্য ঘটনা এবং মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে ওষুধের সঙ্গে ব্যক্তিগত জেনেটিক ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমানোর ইনজেকশনকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি রিপোর্ট হওয়া প্রতিটি মৃত্যুর জন্য ওষুধকে দায়ী করাও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। ওষুধের উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেই চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো ব্যবহার করা উচিত।

বিশেষ করে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বারবার বমি, পানিশূন্যতা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, রোগী নির্বাচনের মানদণ্ড এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নও সামনে আসছে। ফলে সাম্প্রতিক মৃত্যুর রিপোর্টগুলোকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে—তবে এখনই এগুলোকে ওষুধজনিত মৃত্যুর নিশ্চিত প্রমাণ বলা যাচ্ছে না।