ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
মক্কায় নতুন বিমানবন্দর ও মেট্রো: বিশাল অবকাঠামো রূপান্তরের পথে সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট:
মক্কাকে ঘিরে পরিবহন ও নগর ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ধর্মীয় পর্যটনের কেন্দ্র এই পবিত্র নগরীতে নতুন আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও আধুনিক মেট্রো ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মক্কাকে কেন্দ্র করে এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ‘‘Royal Commission for Makkah City and the Holy Sites’’। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, মক্কা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে। লক্ষ্য হলো—বিশ্বজুড়ে আসা কোটি কোটি হজ ও ওমরাহ যাত্রীর চাপ সামলাতে সক্ষম একটি আধুনিক পরিবহন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে মক্কা মেট্রো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক নকশার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“স্মার্ট মক্কা” ধারণায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা
নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো “Smart Makkah” উদ্যোগ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মসজিদুল হারাম ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে জ্যামারাত সেতু ও প্রধান চলাচল এলাকাগুলোর জনপ্রবাহ পূর্বাভাস দিয়ে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়া ড্রোন ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে, যা সরাসরি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে হাজিদের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
মক্কায় ইতোমধ্যে বাস ও ট্যাক্সি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শহরজুড়ে শতাধিক রুটে শত শত বাস চলাচল করছে, যা স্থানীয় ও আগত যাত্রীদের বড় একটি অংশকে সেবা দিচ্ছে। “Makkah Taxi” নামে আধুনিক ডিজিটাল পরিবহন সেবা চালু করা হয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহন ব্যবহৃত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে সেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ কোটি যাত্রী এই পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা নিয়েছে।
অবকাঠামো ও হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন
মক্কার চারপাশের রিং রোড, প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলো উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি মিনা, আরাফাত ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নতুন আবাসন, টেন্ট ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
পরিবেশগত দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাজার হাজার গাছ রোপণ, পানি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা এবং ছায়াযুক্ত হাঁটার পথ তৈরি করা হচ্ছে যাতে তীব্র গরমে যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়া যায়।
লক্ষ্য: আরও নিরাপদ ও স্মার্ট তীর্থযাত্রা
কর্তৃপক্ষের মতে, এই সব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মক্কাকে একটি “স্মার্ট, নিরাপদ ও টেকসই ধর্মীয় নগরী” হিসেবে গড়ে তোলা। আগামী কয়েক বছরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি শহর উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ধর্মীয় পর্যটন ব্যবস্থাপনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কৌশলগত রূপরেখার অংশ।