ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

সিলেটে ফের করোনা শনাক্ত, একই হাসপাতালে হাম-কোভিড রোগী

সিলেটে ফের করোনা শনাক্ত, একই হাসপাতালে হাম-কোভিড রোগী

সিলেট প্রতিনিধি, ৯ আগস্ট: 

প্রায় ১৪ মাস পর সিলেটে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তাকে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তার এনজিওগ্রাম করার পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (আরএটি) করা হয়। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ফল এলে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের একটি কেবিনে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জুন সিলেটে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে করোনার কোন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে জেনোম সিকোয়েন্সিং বা বিস্তারিত পরীক্ষার কোনো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ঘিরে। বর্তমানে হাসপাতালটি হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একই হাসপাতালে হাম ও কোভিড—দুটি সংক্রামক রোগের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হাম ও কোভিড দুটিই অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একই স্থানে দুই রোগের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলে রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপও রয়েছে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সংক্রামক রোগের রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়াটাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং মাস্ক পরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে গেলেও এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। তাই জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে সিলেটে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তিনি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া প্রথম চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তার মৃত্যু সিলেটে করোনার ভয়াবহতার প্রথম দিককার একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।

সিলেটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ার ঘটনাটি তাই শুধু একজন রোগীর চিকিৎসার বিষয় নয়; হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতার জন্যও এটি নতুন করে সতর্কবার্তা।